সহকারী প্রধান শিক্ষক
১০ জুন, ২০২০ ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
শুধু যে শহরে,তাহা নহে ; বরং প্রতিটি জেলা -উপজেলায় সুন্দর সুন্দর অবকাঠামো নির্মিত স্কুল দেখিয়া একটু মনের অভ্যন্তরে ঈর্ষা জাগ্রত হওয়াটা হয়তো অস্বাভাবিক বলিয়া কিছু নহে।
আপনারা ইহা পড়া মাত্র, মনে মনে এতক্ষণে নিশ্চয়ই পূর্ণ ধারণা করিয়াছেন যে, "এই বেটা তো ভালো লোক না, যে কিনা স্কুলের উন্নয়ন দেখে হিংসে করে।"
সেই বিচার করিতে যাইতেছিনা,কে আসলে ঠিক? অবশ্য আমি বিচারক ও নই যে, বিচার করিবো, বরং লেখাটার আপাদমস্তক ভালো করিয়া শাণিত মন -মেধায় পড়িয়া পাঠক তথা শিক্ষক বাতায়নের সকল শ্রদ্ধেয় স্যার, ম্যাম গণকে বিচার করিবার সমুহ দায়িত্ব স্বজ্ঞানে অর্পণ করিলাম।
যাইহোক,বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রোডম্যাপে দেশের ব্যপক উন্নয়ন চারদিকে খোলা নয়নে তাকালেই তাহা দৃষ্টি গোচর হইয়া থাকে।তাহারই ফলশ্রুতিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ও ব্যপক উন্নয়ন মূলক কাজ সম্পন্ন হইতেছে।
যাহা শুধু ভালো নহে, খুব-ই ভালো এবং যুগোপযোগী। যদিও বা কোভিড-১৯ এই বৈশ্বিক মহামারীর ছোবলে সব দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির। তাহার পর ও আমাদের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়াছেন যে," শিক্ষাখাতে সরকারের সহযোগিতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। "
আসল কথায় আসি, সকল উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন তাহার মানে আমার, আপনার সকলের। এখন বলিবেন, "তবে হিংসা করেন কেন? "
বাস্তবতা এই যে, হোটেলে আপনার পাশে কেউ যদি খাসির ভুনা মাংসের স্বাদে ঢেকুর তুলিয়া থাকে, আর আপনি সেখানেই শুধু সবজি-ডালে ক্ষুধা নিবারণ করেন, কিন্তু তখন সেই তৃপ্তি সেই মজা কি পাইবেন?
যখন দেখিয়া থাকি, প্রায় স্কুল বিল্ডিং প্রাপ্ত হইয়াছে।তাহাদের দুই একটা কক্ষ অব্যবহৃতই থাকিতেছে, সেখানে আমার দুই নয়নে ভাসিতেছে আমার স্কুলের টিন সেটের ছোট্ট সংংকুলান রূম গুলো যেন গিজ গিজ করিতেছে শিক্ষার্থীতে। নবম-দশম শ্রেণীর বিভাগ ওয়ারী পাঠ ক্লাসের শিক্ষার্থীরা প্রায় আসিয়া বলিয়া থাকে, "স্যার, আমাদের ক্লাস করার রুম নেই।"
মনটা খারাপ না হইয়া পারেনা, গ্রন্থাগারের এক কর্ণারে তাহাদের ঘেষাঘেষি নিয়মিত ক্লাস না লইয়া উপায় কি?
তবু ও মন কে শান্ত্বনা দিয়া বলিয়া থাকি, ২০২০ এ না হইলেও ২০২১ ইং সালে একটি বড় বিল্ডিং এর বরাদ্দ তো হইবেই ইনশাল্লাহ।