সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৯ এপ্রিল, ২০২০ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
উদ্ভাবনকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ করেন তারা সহজেই অনেক ঝুঁকি এড়াতে পারেন। এরূপ বিস্ময়কর অথচ সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে প্রয়োগযোগ্য ৬টি চমক নিয়ে এই প্রতিবেদন।]
১. স্ট্রোক ও কার্ডিওভাসকুলার প্রতিরোধে সবুজ সবজি : স্ট্রোক বা পক্ষাঘাত এবং কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রতিবছর বিশ্বে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। আজকাল আমাদের দেশেও এ ধরনের রোগে প্রচুর মানুষ মারা যায়। এর কারণ ও কার্যকরণ উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘসময় ব্যয় করেছেন। এর ফলে যেসব ওষুধ বা নিরাময় পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে তার সবগুলোই হয়েছে তার সবগুলোই সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রোগের উৎপত্তি, কারণ, আক্রান্ত স্থান, সময় এরূপ অনেক কিছুই নির্ভর ও বিবেচনা করে এসব ওষুধ প্রয়োগের উদ্যোগে বা ব্যবস্থা নিতে হয়। তাই যথাসময়ের মধ্যে যথাযথ ওষুধ প্রয়োগের অভাবে অনেক মানুষই অকালে মৃত্যু পথযাত্রী হয়। আবার যথাসময়ে যথাযথ ওষুধ প্রয়োগের ফলে অনেকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পায়। অসময়ে বা যথাসময়ে পূর্বে মানুষকে হারানোর এই যাতনা তা পরম ও চরম আত্মীয়ই নয় বিজ্ঞানীদেরও ব্যথিত করে। তাছাড়া এসব ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামান্য ভুল-ত্রুটির কারণেও সাইড ইফেক্ট অর্থাৎ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে। মানুষ হিসেবে আরেক মানুষকে বাঁচানোর জন্য এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিবন্ধকতা থাকায় বিজ্ঞানীরা স্বাভাবিক খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময়ের উদ্যোগ নেন। তারা এক্ষেত্রে সার্থকও হয়েছেন।
একসময় মানুষ প্রতিদিনকার আহার্য কাঁচাই খেত। পাক করে খাবার প্রবণতা, আগুন আবিষ্কার ও শিল্প যুগের গোড়াপত্তন হওয়ার পরই মানুষের মনে সৃষ্টি হয়। পাক করে খাদ্য গ্রহণ যদিও অনেকটা রুচিশীলতার প্রতীক, কিন্তু আগুনের তীব্রতার তারতম্যের কারণে খাবারে বিদ্যমান অনেক খাদ্যপ্রাণই নষ্ট হয়ে যায়। যার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা সত্ত্বেও আমরা অপুষ্টি, প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও খনিজ পদার্থ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হই। ফলে আমাদের দৈহিক গঠনে ত্রুটি-বিচ্যুতির সৃষ্টি হয়। মূলত এসব ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্যে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। গবেষকরা গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন কোনো মানুষ যদি প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট আহার বা গ্রহণ করেন তাহলে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২০% কমে যায়। শুধু তাই নয় ১৩% কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
প্রকৃতিতে বিদ্যমান খাদ্য খেয়ে যখন স্ট্রোক ও কার্ডিওভাসকুলার রোগের মতো জটিল ও কঠিন রোগ চিকিৎসা করা যায় তখন সঙ্গত কারণেই অনেকে প্রশ্ন করবেন ফোলেট কোথায় বা কী ধরনের খাদ্যে বিদ্যমান। আসলে ফোলেট হচ্ছে এক ধরনের ভিটামিন। লেবু বা লেবু জাতীয় খাদ্য-টমেটো, সবুজ লতা-পাতাসম্পন্ন শাক-সবজি, সবজি হিসেবে ব্যবহৃত বাগানে চাষ করা উদ্ভিদ বিশেষ, লেটুস (সালাদে ব্যবহৃত কাঁচা খাওয়ার উপযুক্ত সবুজ পাতা জাতীয় উদ্ভিদ), খাদ্যশস্য ইত্যাদিতে ফোলেট প্রচুর পরিমাণ পাওয়া যায়। উক্ত পরিমাণে ফোলেট ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমে বিশেষ প্রভাব ফেলায় হোমোসিস্টেনী (Homocysteine)’র পরিমাণের স্তরকে কমিয়ে দেয়। এই হোমোসিস্টেনিকে এক ধরনের এমিনো এসিড বলা যায় যার কাজ হচ্ছে মানুষের কোষগুলোর অস্বাভাবিক আচরণের ফলে ধমনি সংকোচিত হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করায়। এই হোমোসিস্টেনির উপস্থিতি যখন ফোলেটের মাধ্যমে কখনো হয় তখন সঙ্গত কারণেই স্ট্রোক বা কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাওয়ার আশংকা কমে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে তাই যারা এ দুটি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের উচিত প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি খাওয়া। বিশেষ করে যেসব শাক-সবজিতে সবুজ লতা-পাতা বেশি সেগুলো এ ধরনের রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই ওষুধের বিকল্প হিসেবে ফোলেট বেছে নিন।
২. রক্তের দ্বারা বয়স নির্ণয় : রক্তের দ্বারা বয়স নির্ণয় করা যায় একথা শুনে অনেকেই অবাক হবেন এবং বলবেন, এটি বিজ্ঞানবিষয়ক কোনো খোশগল্প হয়তো? আসলে তা নয়। সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী রক্তের দ্বারা বয়স নির্ধারণের এক কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। একসময় মানুষ মারা গেলে যদি তিনি বেওয়ারিশ লাশ হতেন তখন হাড়ের মধ্যে যে রিং আছে তার বৃদ্ধি গণনা করে বয়স নির্ধারণ করা হতো। আজো আমাদের মতো দেশে তাই করা হচ্ছে। কিন্তু এ কাজ করার জন্য মৃত ব্যক্তির দেহে অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নিতে হয় যা অনেকটা ঝামেলাতো বটেই ব্যয়সাপেক্ষ বিরক্তিকর কাজ। অথচ মানুষ নয় যেকোনো প্রাণীর শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে অনায়াসে তার বয়স নির্ণয় করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের লোয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী মার্ক হ্যাসম্যানের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। আপাতত তারা এই পদ্ধতির কোনো নামকরণ করেননি।
এই পদ্ধতিতে প্রাণীদেহের এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে এর সেল ডিভিশনকে সম্প্রসারিত করে দেখা হয় টিলোমেরাস নামক ক্রোমজোমগুলোর শেষে পুনরাবৃত্তিমূলক সিকোয়েন্সগুলো খুঁজে। এ সময় এ কাজে ব্যবহৃত কৌশল সর্বশেষ সিকোয়েন্সগুলো সঙ্গত কারণেই খুঁজে পায় না। তখন ধরে নেয়া হয় প্রাণীদের বয়স বাড়ার কারণে টিলোমেরাস ছোট হয়ে গেছে। টিলোমেরাস ছোট হয়ে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা বয়স বাড়ার বিষয়টি নির্ধারণ করেন।
এ বিজ্ঞানীরা গবেষণার সময় অশ্বাকৃতির এক ধরনের ছোট প্রাণীর (জেব্রা ফিনচ) শরীর থেকে রক্ত নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তাদের পরীক্ষা শেষে প্রাণীটির বয়স ১০ বছর নির্ণয় করা হয়েছিল। এরপর অন্যান্য কৌশল প্রয়োগ করে এই প্রাণীর বয়স নির্ণয় করা হলে একই ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। তা থেকেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি।
৩. বায়ুমন্ডলে বছর প্রতি কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির পরিমাণ ১% : বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক এক গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বায়ুম-লে প্রতি বছর কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির পরিমাণ ১%। বেলজিয়ামের রয়েল অবজারভেটরি এবং ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব লৌভ্যানের বিজ্ঞানী ওলিভিয়ার ডি ভাইরনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার বিজ্ঞানীরা এই তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করেন।
এই বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুম-লে কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রায় ৭০ বছর পর বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। নির্ভুলভাবে পরিমাপের ফলে দেখা গেছে।
কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রতিদিন প্রায় ১০ মাইক্রোসেকেন্ডের সমান বৃদ্ধি পায়। বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড সৃষ্টি হয় এবং প্রাকৃতিক কারণে তা শোষণ এবং অন্য বস্তুতে রূপান্তরকরণ হয় এতে ভারসাম্যতা বজায় না থাকায় এসব কার্বন ডাই-অক্সাইড অপরিবর্তনীয় অবস্থা বায়ুম-লে ভেসে বেড়ায়। তাছাড়া বায়ুম-লে উক্ত হাওয়ারও সৃষ্টি হয়। এর ফলে মরু অঞ্চলে জমে উঠা বিশাল বরফগুলো উত্তপ্ত হাওয়ার সংস্পর্শে এসে ভারসাম্যহীন অবস্থায় গলতে শুরু করে। এই অস্বাভাবিকতার কারণে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বা পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে হাওয়া দ্রুতবেগে ছুটে যায়। গরম হাওয়া পৃথিবীর কুমেরু অঞ্চলে গিয়ে ঠা-া হাওয়ার সাথে মেশার ফলে বায়বীয় কার্বন ডাই-অক্সাইড যদিও কিছুটা সলিড (তরল বা বায়বীয় আকারে নয় এমন কঠিন) আকার ধারণ করে কিন্তু এতে বাতাসের স্বাভাবিকতা বজায় থাকে না। তাই এই বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এমন একসময় আসবে যখন ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিবে।
৪. বিকল্প জ্বালানি কার্বন ন্যানোপোরাস : যানবাহন এবং শিল্প কারখানা থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তা প্রতিরোধের উপায় বের করার জন্য বিজ্ঞানীরা যখন হিমশিম খাচ্ছেন তখন কলম্বিয়ার একদল বিজ্ঞানী কার্বন থেকে উৎপাদিত বিকল্প জ্বালানি তৈরির এক কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হলেও মূলত মিথেন (বর্ণহীন, গন্ধহীন, দাহ গ্যাস বিশেষ (CH4) যা কয়লা খনিতে এবং জলা অঞ্চলে দেখা যায়) থেকে উচ্চ চাপের মাধ্যমে এই জ্বালানি তৈরি করা যায়। সাধারণত বায়ু বিশুদ্ধকরণ এবং পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য পোরাস ম্যাটারিয়েল (যার মধ্যে দিয়ে তরল পদার্থ চলাচল করতে পারে) ব্যবহার করা হয়।
মিশেরি ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ পিটার ফাইজার এবং তার সহকর্মীরা কার্বন ন্যানোপোরাসের মধ্যে এই ম্যাটারিয়েলের সন্ধান পেয়েছেন। নতুন উদ্ভাবিত এই পদ্ধতির কথা যখন এই বিজ্ঞানীরা প্রথম ব্যক্ত করেন তখন অনেকেই সমালোচনার বান ছুড়ে দিয়ে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা কামনা করেন।
এর পরিপ্রেক্ষতে বিজ্ঞানীরা জানান, বর্তমান মিথেনকে কোনো প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত ভারি স্টিল দ্বারা তৈরি সিলিন্ডারের মধ্যে অত্যধিক চাপ (কমপক্ষে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৩০০০ পাউন্ড) প্রদান করে সংরক্ষণ করা হয়।
অত্যধিক নড়াচড়া বা ঝুঁকিপূর্ণ আঘাতের ফলে এরূপ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। অথচ কার্বন ন্যানোপোরাস মিথেনকে আরো কম চাপে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৫৩০ পাউন্ড ভারি স্টিল দ্বারা তৈরি সিলিন্ডারের মধ্যে ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণের সুযোগ দেয়। তাই মিথেনভর্তি সিলিন্ডার দ্বারা কার্বন ন্যানাপোরাসের সাহায্যে যেকোনো যানবাহন চালানো যাবে। বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে যেভাবে যানবাহন চালানো হয় বিজ্ঞানীদের মতে সে স্থলে কার্বন ন্যানোপোরাসের সাহায্যে মিথেন ব্যবহার করে ঝুঁকি ছাড়াই একই কাজ করা যাবে।
৫. নাইট্রোজেনভিত্তিক রেডিয়েশন ডিটেক্টর : লরেন্স বারকেলী ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির প্রকৌশলীদের সাথে যৌথ উদ্যোগে লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির একদল বিজ্ঞানী এমন একটি মোবাইল সিস্টেম সম্প্রতি উদ্ভাবন করেছেন যা হোক নির্গত গামা-রশ্মির জন্য মানুষের শরীরে যাতে কোনো ক্ষতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সে লক্ষ্যে হেন্ড হেল্ড কুলেড ডারমেনিয়াম রেডিয়েশন-স্পেকটোমিটার যুক্ত করা হয়েছে। তরল নাইট্রোজেন ছাড়াই এই স্পেকটোমিটারটি কম শক্তির কম্পোক্ট মাইক্রোক্রাইকুলার দ্বারা যান্ত্রিক কৌশলে ঠা-া করা যায়। তাছাড়া হাই-লেভেলের এনার্জি রেজুলেশনও অর্জন সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা নতুন উদ্ভাবিত এই স্পেকটোমিটারটির নামকরণ করেছেন ক্রাইও থ্রি। এটি এয়ার প্রুফ ছোট আকৃতির জারমেনিয়াম ভিটেক্টর, মাইক্রোকুলার এবং একটি কন্ট্রোলার সহযোগে তৈরি করা হয়েছে। যার ওজন মাত্র ১০ পাউন্ড। দুটি রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি দ্বারা একে প্রায় ৮ ঘণ্টা সচল রাখা যায়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য ক্রাইও থ্রি অত্যন্ত উপযুক্ত একটি এ্যাপ্লিকেশন্স। তরল নাইট্রোজেন সরবরাহ ছাড়াই পরীক্ষাগার পর্যায়ের ফলাফলের জন্য এটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জারমেনিয়াম কোয়ালিটির স্পেকট্রোকপি সুবিধা প্রদান করতে পারে। তাই মানুষের জন্য ক্ষতিকর রেডিয়েশন প্রতিরোধে একে নির্ভাবনায় ব্যবহার করা যায়।
৬. মশা ও ম্যালেরিয়া জীবাণুর জিন বিন্যাস আবিষ্কার : মানুষের বিশেষ করে প্রাণীদের জিন নিয়ে গবেষণায় সারা বিশ্বে যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি সম্প্রতি সেক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী ধারার সূচনা করেছেন জিন গবেষকরা। তারা এবার মশা এবং ম্যালেরিয়া-জীবাণুর জিন গবেষণা শুরু করেছেন। শুধু তাই নয় এক্ষেত্রে তারা ইতোমধ্যে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন। গত ৬ বছর যাবত পরিচালিত এই গবেষণার মাধ্যমে এই গবেষকরা রক্তশোষক মশা ‘এনোফিলিস গ্যাম্বি’ এবং ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবী প্লাজমোডিয়াম ফলস্পিরাস-এর ডিএন’র বিন্যাস জানতে পেরেছেন। এরপর এই বিজ্ঞানীরা বলেছেন এই জিন সিকোয়েন্সের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া নিরাময় এবং প্রতিরোধে আরো কার্যকর ওষুধ ও মশানাশক তৈরি করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মপ্রধান দরিদ্র দেশগুলোতে যেভাবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ (১০ লাখ) লোক মারা যায় অতিদ্রুত এই জিন বিন্যাস ব্যবহার করে সেসব দেশে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে।
বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ পাবার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান বিষয়ক গণমাধ্যগুলোতে নতুন করে আবার সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ইতোমধ্যে অনেকেই বিজ্ঞানীদের এই গবেষণাকর্মকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সমালোচনা করলেও দ্রুত নতুন এই প্রযুক্তির বাস্তবসম্মত প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ এর ফলে এই প্রযুক্তি যেমনি বাস্তবতা পাবে তেমন মশার আক্রমণ প্রতিরোধে যেসব ওষুধ বর্তমানে ব্যবহৃত হয় এগুলোর দ্বারা এই জনআহতকর পরিস্থিতির শিকার থেকে মানুষ রেহাই পাবেন।