উপাধ্যক্ষ
১৭ এপ্রিল, ২০২০ ০১:৪৯ অপরাহ্ণ
উপাধ্যক্ষ
একজন শিক্ষক অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এই সময়ের ভাবনা
সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি সকলে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কোনো বিকল্প নেই। এশিয়ান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বিশেষ করে মুগদা অঞ্চলের যতগুলো স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা রয়েছে তার সবগুলো প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ অন্যান্য শিক্ষক যাঁরা রয়েছেন তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাবার যে মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তার একজন অংশীদার হিসেবে আপনি আপনার নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করবেন যে, প্রতিদিন সকাল ৯:০০ থেকে ১২: টা পর্যন্ত সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দেশ সেরা শিক্ষকদের নেওয়া সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় , প্রতিটি ক্লাস শেষে একটি করে বাড়ির কাজ দেওয়া হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠান খোলার পর সেই বাড়ির কাজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দেখে তাকে মূল্যায়ন করবেন এবং এর নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের সাথে যোগ হবে। তাই সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ আপনারা আপনাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন এই আশা করছি। আর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী যারা আছেন তাদের জন্য ইউটিউবে আইসটি সহ বিভিন্ন বিষয়ের ভিডিও টিউটোরিয়াল রয়েছে সেখান থেকে আপনারা উপকৃত হতে পারবেন। আইসিটি বিষয়ের আমারও একটি চ্যানেল রয়েছে। সেখানে আমার বিভিন্ন লেকচার রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন বোর্ড ভিত্তিক প্রশ্ন-উত্তরের লেকচার পাওয়া যাবে।
একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আসলে এই মুহূর্তে ঘরে বসে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তাই সু-প্রিয় শিক্ষার্থীদের বলছি,“ আপনারা ঘরেই অবস্থান করুন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঘর থেকে বাইরে বের না হয়ে ঘরে বসেই আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবেন।” এর জন্য সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে বেলা ১২:০০ টা পর্যন্ত চোখ রাখবেন। আর যদি কখনও ক্লাস দেখতে সমস্যা হয়, তাহলে মন খারাপের কিছুই নেই আপনাদের জন্য তৈরি যে কিশোর বাতায়ন আছে সেখানে ক্লাসগুলো আপলোড করা থাকবে সেখানথেকে আপনারা ইচ্ছে করলে দেখে নিতে পারেন অথবা ডাউনলোড করে অধ্যয়ন করতে পারবেন।
এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এটুআইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবার যে প্রয়াস চালাচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। এর জন্য নানা জটিলতা রয়েছে, সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সমালোচনা রয়েছে। মনে রাখতে হবে এত অল্প সময়ে এত বড় একটি কর্ম পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন সকলের সহযোগিতা ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব না। তাই সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, সমালোচনা না করে পজেটিভ চিন্তা নিয়ে এগিয়ে এসে বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কার্যক্রমকে ফলপ্রসু করি। তবেই অর্জিত হবে শিক্ষক হিসেবে পেশাদারিত্বের মূল্যবাধ। সবাইকে আবার ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন। খোদা হাফেজ।