Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১২ এপ্রিল, ২০১৪ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

ছবি

প্রতিষ্ঠান পরিচিতি

 

স্কুল শাখাঃ অবিভক্ত ভারতবর্ষে কঠিন পর্দা প্রথার যুগে মুসলিম নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মুসলিম অধ্যুষিত কাঁচিঝুলি এলাকায় আজ থেকে শত বছর পূর্বে ১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় “কাঁচিঝুলি মোহামেডান গার্লস স্কুল”। বর্তমান মুসলিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ময়মনসিংহের গোড়াপত্তন হয় জুলাই ১৯১১ খ্রীঃ। তখনকার সময়ে মুসলিম মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। মুসলিম অধ্যুষিত কাঁচিঝুলি এলাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার এই অভাব পূরণে এগিয়ে আসেন বর্তমান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলিম উদ্দিন খান। তিনি তৎকালীন সময়ে সাহেব আলী খান (খান সাহেব) মোক্তার সাহেবকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যালয় স্থাপনে জায়গার অভাব পূরণে আলিম উদ্দিন খান তাঁর দখলীয় দেড় বিঘা জমি দান করেন। আলিম উদ্দিন খান, উক্ত বিদ্যালয়ের আজীবন সেক্রেটারীর দায়িত্ব অর্পণ করেন সাহেব আলী খান মোক্তার সাহেবকে। সাহেব আলী খান মোক্তার সাহেব ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। প্রাথমিক অবস্থায় বিদ্যালয়টির নাম দেন “কাঁচিঝুলি মোহামেডান গার্লস স্কুল”। হার এক্সেলেন্সি কাউন্টেস অব লিটন আগস্ট, ১৯২২ সালে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং স্কুলটিকে এম.ই. স্কুলে উন্নীত করার সুপারিশ করেন। ১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দে এই প্রতিষ্ঠানটি এম.ই স্কুলে উন্নীত হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ এম.এ। যে সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বিদ্যালয়টির পরিচালনা ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন খান বাহাদুর ইসমাইল, মোঃ আব্দুল মান্নান ও মোঃ খোরশেদ আলী। চল্লিশ দশকে বিদ্যালয়টির পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নয়নে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনাব খান বাহাদুর নূরুল আমিন (সভাপতি), খান বাহাদুর গিয়াস উদ্দিন পাঠান (সহ-সভাপতি), জনাব উমেদ আলী, বি.এল; ডাঃ আব্দুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান (সম্পাদক), অধ্যক্ষ রিয়াজ উদ্দিন আহমাদ, আব্দুর রহিম, সমশের আলী ও আয়েশাতুজ জোহরা। উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ও ছাত্রী সংগ্রহে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। দূরবর্তী ছাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃক আয়া নিযুক্ত করা হয়, ফলে ধীরে ধীরে ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর এই সচেতনতা বৃদ্ধির ফলেই ১৯৪৩ সালে তৎকালীন স্কুল কর্তৃপক্ষ এম.ই স্কুলটিকে হাই স্কুলে উন্নীত করার কাজ শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে উচ্চতর ক্লাশ সংযোজিত হতে থাকে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম তিনজন মেট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সকলেই উত্তীর্ণ হন।
বিশিষ্ট সমাজসেবী ডাঃ আব্দুর রহমান এর অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিশেষ ভূমিকায় হাই স্কুলটি পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তাঁরই উদ্যোগে হাই স্কুলের পাকা গৃহ ও ছাত্রীনিবাসটি নির্মিত হয়। দূরবর্তী ছাত্রীদের নিরাপদে স্কুলে আসার জন্য দুটি বাস ক্রয় করা হয়। ডাঃ আব্দুর রহমান সাহেব বহু বৎসর স্কুলের সেক্রেটারী ও ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মহতী এই ব্যক্তি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ১৯৪৪ সালে মুসলিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ডঃ মালিকা আল রাজী। তিনি প্রায় চার বৎসর এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দায়িত্ব নেন বেগম জেবুন নেসা খানম। মাত্র কয়েকমাস দায়িত্ব পালন করার পর তিনি অব্যাহতি নিলে পঞ্চাশ দশকের প্রথম দিকে মিসেস মেহেরুন্নিসা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ০১ জানুয়ারী ১৯৫৫ খ্রীঃ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন মিস. সোফিয়া খান, যিনি প্রায় ৩৭ বৎসর বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি ১০ জুলাই ১৯৯১ খ্রীঃ পর্যন্ত কর্মরত থেকে অবসর গ্রহণ করেন। প্রথম দিকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এবং পরে সানকিপাড়ায় একটি ভাড়াটে বাড়ী প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের ছাত্রীনিবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চলের ছাত্রীরা সেই ছাত্রীনিবাস থেকে লেখাপড়া করত। বিদ্যালয়ের একজন আয়া ছাত্রীদের আনানেয়া করত। পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই বিদ্যালয়ের পাকা ছাত্রীনিবাস নির্মিত হয়। ছাত্রীনিবাসের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন মিসেস রওশন আরা বেগম, যিনি পরবর্তীতে শিশু কাননের সুপাররেন্টেন্ডেন্ট হন।
বিশিষ্ট সমাজসেবী ডাঃ আব্দুর রহমান এর অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিশেষ ভূমিকায় হাই স্কুলটি পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তাঁরই উদ্যোগে হাই স্কুলের পাকা গৃহ ও ছাত্রীনিবাসটি নির্মিত হয়। দূরবর্তী ছাত্রীদের নিরাপদে স্কুলে আসার জন্য দুটি বাস ক্রয় করা হয়।প্রথম দিকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এবং পরে সানকিপাড়ায় একটি ভাড়াটে বাড়ী প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের ছাত্রীনিবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চলের ছাত্রীরা সেই ছাত্রীনিবাস থেকে লেখাপড়া করত। বিদ্যালয়ের একজন আয়া ছাত্রীদের আনানেয়া করত। পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই বিদ্যালয়ের পাকা ছাত্রীনিবাস নির্মিত হয়। ছাত্রীনিবাসের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন মিসেস রওশন আরা বেগম, যিনি পরবর্তীতে শিশু কাননের সুপারেন্টেন্ডেন্ট হন। ডাঃ আব্দুর রহমান সাহেব বহু বৎসর স্কুলের সেক্রেটারী ও ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মহতী এই ব্যক্তি চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন।
১৯৪৪ সালে মুসলিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ডঃ মালিকা আল রাজী। তিনি প্রায় চার বৎসর এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দায়িত্ব নেন বেগম জেবুন নেসা খানম। মাত্র কয়েকমাস দায়িত্ব পালন করার পর তিনি অব্যাহতি নিলে পঞ্চাশ দশকের প্রথম দিকে মিসেস মেহেরুন্নিসা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৯৫৪ খ্রীঃ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ০১ জানুয়ারী ১৯৫৫ খ্রীঃ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন মিস. সুফিয়া খান, যিনি প্রায় ৩৭ বৎসর প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি ১০ জুলাই ১৯৯১ খ্রীঃ পর্যন্ত কর্মরত থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তার অবসর গ্রহণের পর সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে মানবিক বিভাগ দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তি পর্যায়ে ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে বিজ্ঞান ও গার্হ্যস্থ বিজ্ঞান শাখা খোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক বিজ্ঞানাগার। অত্র প্রতিষ্ঠানের উত্তর দিকের বাড়ীসহ (লাল বিল্ডিং) .৫৫০৬ শতাংশ জমি ০৫/১০/১৯৬২ খ্রীঃ সাফ কাওলামূলে খরিদ করা হয়। কিন্তু বাড়ির ভাড়াটিয়াদের বাড়ী ও ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে সময় লাগে ২৭ বৎসর। এই সময় জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় যা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। অবশেষে ১৯৮৯ খ্রীষ্টাব্দে অত্র প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব এ.কে.এম মঞ্জুরুল হক এডভোকেট এর নেতৃত্বে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি বাড়ী ও জমি দখল নেয়ার জন্য উদ্যোগী হন এবং আদালত, প্রশাসন, পুলিশ, এলাকাবাসী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সহায়তায় ০৬ জুন ১৯৮৯ ইং বাড়ী ও জমি দখলমুক্ত করেন। উল্লেখ্য জনাব এ.কে.এম মঞ্জুরুল হক এডভোকেট সত্তর দশক থেকে শুরু করে ২০০৮ খ্রী: এর মধ্যে বেশিরভাগ সময় এই প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে শ্রম ও মেধা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি পালন করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের অনেক কৃতি শিক্ষার্থী দেশ ও বিদেশে শীর্ষ পর্যায়ের চাকুরিতে কর্মরত। বর্তমানে স্কুল শাখায় এস.এস.সি তে নিয়মিতভাবে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হচ্ছ

 
 

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট