সহকারী শিক্ষক
০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
বেতার তরঙ্গ (Radio Waves) ব্যবহার করে তথ্য বা বার্তা প্রেরণের ক্ষেত্রে ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনি (Guglielmo Marconi)-এর অবদান এবং পরবর্তীতে কম্পিউটার প্রযুক্তির বিকাশের ইতিহাস তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতিতে এক অনন্য মাইলফলক। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:
পরিচিতি ও জীবনকাল: গুগলিয়েলমো মার্কনি ১৮৭৪ সালে ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত ইতালীয় উদ্ভাবক ও তড়িৎ প্রকৌশলী।
বেতার তরঙ্গ ও প্রথম প্রকাশ: তিনি প্রথম সফলভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে, বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে তার ছাড়াই দূরদূরান্তে বার্তা পাঠানো সম্ভব। ১৮৯৫ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে তিনি সফলভাবে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে সিগন্যাল পাঠিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন।
সার্বজনীন স্বীকৃতি ও আইইইই (IEEE) এর মূল্যায়ন: বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে সফলভাবে সিগন্যাল প্রেরণের কাজটি সবার আগে প্রকাশ করায় তিনি বিশ্বজুড়ে সার্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে প্রভাবশালী সংস্থা ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (IEEE) তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে রেডিও বিজ্ঞানের অগ্রপথিক ও অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করে। তাঁকে সাধারণত 'বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক' হিসেবেই গণ্য করা হয়।
ইলেকট্রনিক্সের বিকাশ: বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে প্রথাগত বা যান্ত্রিক পদ্ধতির দিন ফুরিয়ে আসে এবং ভ্যাকুয়াম টিউব ও ট্রানজিস্টরের যুগ শুরু হয়।
আইবিএম (IBM) ও মেইনফ্রেম কম্পিউটার: ইলেকট্রনিক্সের এই অগ্রগতির হাত ধরে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট আইবিএম (IBM) কোম্পানি বিশ্বের প্রথম বড় আকারের বাণিজ্যিক মেইনফ্রেম কম্পিউটার তৈরি করে। এই কম্পিউটারগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও গবেষণাগারে বিশাল ডেটা প্রসেসিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হতো। তবে আকৃতিতে বিশাল ও ব্যয়বহুল হওয়ায় এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।
মাইক্রোপ্রসেসর যুগ (১৯৭১): ১৯৭১ সালে ইন্টেল (Intel) কর্পোরেশনের হাত ধরে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মাইক্রোপ্রসেসর (Intel 4004) আবিষ্কৃত হয়। মাইক্রোপ্রসেসর আসার ফলে কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউ-কে একটিমাত্র ছোট সিলিকন চিপের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
সাশ্রয়ী কম্পিউটার ও বিপ্লব: মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার কম্পিউটারের আকার ও উৎপাদন খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়। এর ফলে মেইনফ্রেম কম্পিউটারের বিশালতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী সাশ্রয়ী পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) তৈরির পথ সুগম হয়, যা পরবর্তীতে পুরো পৃথিবীকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করিয়ে দেয়।