Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ণ

স্যার টিমোথি জন বার্নাস-লি (Sir Tim Berners-Lee)

স্যার টিমোথি জন বার্নাস-লি (Sir Tim Berners-Lee) এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (WWW) আবিষ্কার মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. পটভূমি ও আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট (১৯৮৯)

  • সুইজারল্যান্ডে কাজ: আশির দশকের শেষভাগে স্যার টি বার্নাস-লি ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা (CERN)-এ ফেলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিজ্ঞানী ও গবেষক একসাথে কাজ করতেন।

  • তথ্য ভাগাভাগির সমস্যা: বিভিন্ন গবেষকদের গবেষণাপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আলাদা আলাদা কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকায় সেগুলো নিজেদের মধ্যে দ্রুত শেয়ার করা বা খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ছিল।

  • সমাধানের প্রস্তাব: এই সমস্যা দূর করার জন্য ১৯৮৯ সালে তিনি এমন একটি তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের প্রস্তাব করেন, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো কম্পিউটার থেকে খুব সহজে ডেটা বা ফাইল আদান-প্রদান ও ব্রাউজ করতে পারবে। এর মাধ্যমেই জন্ম নেয় World Wide Web (www) এবং হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (HTTP)।

২. ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) আসলে কী?

অনেকে ইন্টারনেট (Internet) এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে (Web) একই জিনিস মনে করলেও দু'টি ভিন্ন:

  • ইন্টারনেট: হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি বিশাল অবকাঠামো বা হাইওয়ে, যা একে অপরের সাথে যুক্ত।

  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW): হলো সেই ইন্টারনেটের ওপর তৈরি একটি ইনফরমেশন সিস্টেম বা পৃষ্ঠাগুলোর ভাণ্ডার, যা ব্রাউজারের সাহায্যে আমরা ওয়েবসাইটে ভিজিট করে দেখতে পাই। বার্নাস-লি প্রথম ওয়েব ব্রাউজার, ওয়েব সার্ভার এবং প্রথম ওয়েবসাইট তৈরি করে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

৩. আধুনিক বিশ্বে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব

স্যার টিমোথি জন বার্নাস-লির এই যুগান্তকারী আবিষ্কার বিশ্বকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে:

  • ইন্টারনেটের সর্বজনীন বিস্তার: ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ আসার আগে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ছিল। এটি আসার পর সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

  • ডিজিটাল অর্থনীতি: ইন্টারনেট ও ওয়েবের ওপর ভিত্তি করে আজ বিশ্বজুড়ে বিশাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা ডিজিটাল ইকোনমি গড়ে উঠেছে। ই-কমার্স, অনলাইন বিজনেস, ফ্রিল্যান্সিং এবং গ্লোবাল মার্কেটপ্লেস এর মূলে রয়েছে।

  • অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ও যোগাযোগ: ওয়েব প্রযুক্তির হাত ধরেই আজকের আধুনিক সফটওয়্যার, সোশ্যাল মিডিয়া, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের যুগ সম্ভব হয়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে অত্যন্ত গতিশীল।

স্যার টিমোথি জন বার্নাস-লি তাঁর এই আবিষ্কারের জন্য কোনো পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ব নেননি এবং এটি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য অবৈতনিক ও উন্মুক্ত রেখেছিলেন, যা বিশ্বকে এক সুতায় বাঁধার পথ তৈরি করেছে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট