সহকারী শিক্ষক
০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
সাইবার ঝঁকি: সাইবার ঝুঁকি বলতে ডিজিটাল মাধ্যম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটভিত্তিক সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য চুরি, ডেটা নষ্ট হওয়া বা সিস্টেম অকার্যকর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বোঝায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাইবার ঝুঁকির প্রধান রূপসমূহ
হ্যাকিং ও অননুমোদিত প্রবেশ: সিস্টেম বা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ভেঙে ভেতরের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।
ফিশিং (Phishing): ভুয়া ইমেইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপন পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য চুরি করা।
সফটওয়্যার ও কোডের ত্রুটি: যেমন সাম্প্রতিক পিএইচপি (PHP)-এর নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইট বা সার্ভার ঝুঁকিতে পড়া।
স্মার্ট ডিভাইস বা আইওটি (IoT) আক্রমণ: ফ্রিজ বা অন্যান্য স্মার্ট হোম ডিভাইস ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকায় রিমোটলি এগুলো নিয়ন্ত্রণ বা নষ্ট করার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
আর্থিক জালিয়াতি: ভুয়া ফোনকল, পরিচয় জালিয়াতি ও ডিজিটাল লেনদেনে কারচুপির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।
বর্তমান পরিস্থিতি (বাংলাদেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষাপট)
বাংলাদেশে সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক সাইট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালে 'সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, ভার্সন ১.০' জারি করেছে, যার বাস্তবায়নের সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের প্রসারের সাথে সাথে আগামীতে সাইবার হামলার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার: অ্যাকাউন্টে জটিল পাসওয়ার্ড এবং সম্ভব হলে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখা।
নিয়মিত আপডেট: সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম এবং ডিভাইসের ফার্মওয়্যার নিয়মিত আপডেট করা।
সচেতনতা বৃদ্ধি: অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংক, ইমেইল বা ফোনকল থেকে দূরে থাকা।
নিরাপদ নেটওয়ার্ক: ওয়াই-ফাই ব্যবহারে WPA2 বা WPA3 এনক্রিপশন ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনে স্মার্ট ডিভাইসের রিমোট অ্যাক্সেস বন্ধ রাখা।