সহকারী শিক্ষক
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:১৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ অর্থনীতি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৩
অর্থনীতিতে কোনো দ্রব্য বা সেবার মানুষের অভাব পূরণ করার ক্ষমতাকে উপযোগ (Utility) বলে। অর্থাৎ, কোনো দ্রব্য বা সেবা ভোগের মাধ্যমে মানুষ যে তৃপ্তি লাভ করে, তাকে উপযোগ বলা হয়।
উদাহরণ: ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ভাত খেয়ে তৃপ্তি লাভ করে। এখানে ভাত ক্ষুধা নিবারণ করে বলে ভাতের উপযোগ রয়েছে।
ধরা যাক, একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি একের পর এক রুটি খাচ্ছেন। প্রতিটি রুটি খাওয়ার ফলে তিনি তৃপ্তি লাভ করছেন। তবে রুটির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত রুটি থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তি কমতে থাকে।
| রুটির সংখ্যা | মোট উপযোগ (কাল্পনিক) | প্রান্তিক উপযোগ |
|---|---|---|
| ১টি | ১০ | ১০ |
| ২টি | ১৮ | ৮ |
| ৩টি | ২৪ | ৬ |
| ৪টি | ২৮ | ৪ |
| ৫টি | ৩০ | ২ |
ব্যাখ্যা: এখানে মোট উপযোগ বাড়ছে, কিন্তু প্রান্তিক উপযোগ ক্রমশ কমছে।
উপযোগ প্রধানত চার প্রকার:
১. রূপগত উপযোগ: কোনো দ্রব্যের রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে উপযোগ সৃষ্টি করা। যেমন—কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি।
২. স্থানগত উপযোগ: কোনো দ্রব্যকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে উপযোগ সৃষ্টি করা। যেমন—গ্রাম থেকে শহরে সবজি নিয়ে বিক্রি করা।
৩. কালগত উপযোগ: উপযুক্ত সময়ে কোনো দ্রব্য সরবরাহ করে উপযোগ সৃষ্টি করা। যেমন—শীতকালে ব্যবহারের জন্য শীতবস্ত্র সংরক্ষণ করা।
৪. সেবাগত উপযোগ: সেবার মাধ্যমে মানুষের অভাব পূরণ করা। যেমন—শিক্ষকের পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জ্ঞান বৃদ্ধি।
উপযোগ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। মানুষের অভাব পূরণ ও তৃপ্তি লাভের সঙ্গে উপযোগের সম্পর্ক রয়েছে। তাই ভোগ, চাহিদা ও ভোক্তার আচরণ বিশ্লেষণে উপযোগের গুরুত্ব অপরিসীম।