Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

কৃষির পরিধি ও পরিসর

কৃষির পরিধি ও পরিসর


কৃষি মানবজীবনের একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের একটি বড় অংশ কৃষি থেকে পাওয়া যায়। কৃষির পরিধি বলতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কাজ ও বিষয়কে বোঝায় এবং কৃষির পরিসর বলতে কৃষির বিস্তার ও প্রয়োগের ক্ষেত্রকে বোঝায়।

১. কৃষির পরিধি

কৃষির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এর প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো—

১. ফসল উৎপাদন: ধান, গম, পাট, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদন।

২. পশুপালন: গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস ও মুরগি পালন।

৩. মৎস্যচাষ: পুকুর, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে মাছ চাষ।

৪. বনায়ন: কাঠ, ফল, জ্বালানি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গাছ লাগানো।

৫. কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ: দুধ, ফল, শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা।

৬. কৃষি প্রযুক্তি: উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা, কৃষিযন্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

২. কৃষির পরিসর

কৃষির পরিসর গ্রাম থেকে শহর এবং দেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। এর প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো—

১. গ্রামীণ কৃষি: গ্রামের জমিতে ফসল উৎপাদন, পশুপালন ও মাছ চাষ।

২. নগর কৃষি: শহরের ছাদ, বারান্দা ও খালি জায়গায় শাকসবজি ও ফলমূল চাষ।

৩. দেশীয় পরিসর: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু ও মাটির উপযোগিতা অনুযায়ী কৃষিকাজ পরিচালনা।

৪. আন্তর্জাতিক পরিসর: কৃষিপণ্য রপ্তানি, উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ।

৫. কৃষিভিত্তিক শিল্প: চালকল, চিনিকল, পাটশিল্প, দুগ্ধশিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প।

৬. পরিবেশ সংরক্ষণ: জৈব কৃষি, মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানি সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষির প্রসার।

কৃষির পরিধি ও পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত। কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে পশুপালন, মৎস্যচাষ, বনায়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও আধুনিক প্রযুক্তি জড়িত। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির পরিধি ও পরিসর সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট