সহকারী শিক্ষক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৭
শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন পদবি: সহকারী শিক্ষক বিষয়: পদার্থবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান: বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু পরস্পরকে যে আকর্ষণ বল দ্বারা আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলে।
উদাহরণ:
পৃথিবী আমাদের নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
গাছ থেকে ফল মাটিতে পড়ে।
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে।
বস্তুর ভর যত বেশি হয়, তার মহাকর্ষ বলও তত বেশি হয়।
দুটি বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়লে মহাকর্ষ বল কমে যায়।
মহাকর্ষ বল একটি আকর্ষণ বল।
মহাকর্ষ বলের প্রভাবের কারণেই পৃথিবীসহ বিভিন্ন গ্রহ সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষ বলের সূত্র আবিষ্কার করেন। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, গাছ থেকে আপেল পড়ার ঘটনা তাঁকে মহাকর্ষ সম্পর্কে চিন্তা করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী, মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
দুটি বস্তুর মধ্যকার মহাকর্ষ বল তাদের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
সূত্রটি হলো:
এখানে,
\(F\) = মহাকর্ষ বল
\(G\) = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
\(m_1\) ও \(m_2\) = বস্তু দুটির ভর
\(r\) = বস্তু দুটির কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব
পৃথিবী তার চারপাশের কোনো বস্তুকে যে আকর্ষণ বল দ্বারা নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তাকে অভিকর্ষ বল বলে।
উদাহরণ: ওপর থেকে একটি বল ছেড়ে দিলে সেটি মাটিতে পড়ে।
মনে রাখবে: মহাকর্ষ বল যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে ক্রিয়া করে, আর পৃথিবীর আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল বলা হয়।
পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ প্রতি সেকেন্ডে যে হারে বৃদ্ধি পায়, তাকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
একে \(g\) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
পৃথিবীপৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণের গড় মান:
অর্থাৎ, বায়ুর বাধা উপেক্ষা করলে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড করে বৃদ্ধি পায়।
মানুষ ও অন্যান্য বস্তুকে পৃথিবীর পৃষ্ঠে ধরে রাখে।
বৃষ্টির পানি মাটিতে পড়তে সাহায্য করে।
পৃথিবীকে সূর্যের চারদিকে কক্ষপথে চলতে সাহায্য করে।
চাঁদকে পৃথিবীর চারদিকে কক্ষপথে থাকতে সাহায্য করে।
সমুদ্রের জোয়ার-ভাটায় চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মহাকর্ষ | অভিকর্ষ |
|---|---|
যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বল। | পৃথিবীর আকর্ষণ বল। |
মহাবিশ্বের সব বস্তুর মধ্যে ক্রিয়া করে। | পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তুর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়। |
এটি একটি সার্বজনীন আকর্ষণ বল। | এটি মহাকর্ষ বলের একটি বিশেষ রূপ। |
প্রশ্ন ১: মহাকর্ষ বল কী?
উত্তর: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু পরস্পরকে যে আকর্ষণ বল দ্বারা আকর্ষণ করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলে।
প্রশ্ন ২: মহাকর্ষ সূত্রের প্রবক্তা কে?
উত্তর: স্যার আইজ্যাক নিউটন।
প্রশ্ন ৩: মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের প্রতীক কী?
উত্তর: \(G\)।
প্রশ্ন ৪: অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রতীক ও মান কী?
উত্তর: প্রতীক \(g\) এবং পৃথিবীপৃষ্ঠে এর গড় মান \(9.8\ \text{m/s}^2\)।
প্রশ্ন ৫: গাছ থেকে ফল মাটিতে পড়ে কেন?
উত্তর: পৃথিবীর অভিকর্ষ বল ফলটিকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে বলে ফলটি মাটিতে পড়ে।
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়া করে।
নিউটন মহাকর্ষের সার্বজনীন সূত্র প্রদান করেন।
পৃথিবীর আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল বলে।
পৃথিবীপৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণের গড় মান \(9.8\ \text{m/s}^2\)।
মহাকর্ষের কারণে গ্রহ, উপগ্রহসহ বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু কক্ষপথে চলতে পারে।
বাড়ির কাজ: মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের সংজ্ঞা লেখো। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবৃত করো এবং সূত্রে ব্যবহৃত প্রতীকগুলোর অর্থ লেখো।