Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:৪০ অপরাহ্ণ

ওয়েব ব্রাউজার,ইতিহাস,কাজ ও জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার

ওয়েব ব্রাউজার কি?

ওয়েব ব্রাউজার মূলত একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম। এটি আমাদেরকে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। আপনি মূলত একটি ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমেই গুগল ব্যবহার করেন, ইউটিউবে ভিডিও দেখেন বা কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন। 

ব্রাউজার কাকে বলে, এটি আরো সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় যে, এটি এমন একটি ডিজিটাল টুল যা ওয়েব সার্ভার থেকে তথ্য এনে আপনার স্ক্রিনে ওয়েবপেজ হিসেবে উপস্থাপন করে। 

অনেকে জিজ্ঞেস করেন, ইন্টারনেট ব্রাউজার এবং ওয়েব ব্রাউজার কি এক জিনিস? বাস্তবে, এই দুই শব্দ এক অর্থেই ব্যবহৃত হয়, তাই এখানে কোনো পার্থক্য নেই। ইন্টারনেট ব্রাউজার বা ওয়েব ব্রাউজারের মূল কাজ হচ্ছে, ইউজারের রিকোয়েস্ট অনুযায়ী ইন্টারনেট থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা এনে তা পাঠযোগ্যভাবে প্রদর্শন করা। 

ওয়েব ব্রাউজারের ইতিহাস

ওয়েব ব্রাউজারের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৯০ সালে, যখন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee) প্রথম ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web) নামের ওয়েব ব্রাউজারটি তৈরি করেন। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম ওয়েব ব্রাউজার এবং একসাথে প্রথম ওয়েব এডিটরও। 

এরপর ১৯৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিং অ্যাপ্লিকেশনস (NCSA), Mosaic নামের একটি গ্রাফিক্যাল ব্রাউজার রিলিজ করে। এটি ওয়েব ব্রাউজিংকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আরও সহজ করে তোলে। Mosaic এতটাই সফল হয়েছিল যে এর ভিত্তিতেই ১৯৯৪ সালে বাজারে আসা Netscape Navigator তৈরি হয় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করে।

এরপর ১৯৯৫ সালে Windows 95 এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাজারে আসে Microsoft Internet Explorer এবং এটি ধীরে ধীরে Netscape কে টপকে যায়। পরবর্তীতে ইউজার সিকিউরিটি ও ব্রাউজিং স্পিড এক্সপ্রেরিয়েন্সকে উন্নত করতে ২০০৪ সালে Mozilla Firefox আত্মপ্রকাশ করে। 

২০০৮ সালে Google Chrome আসার পর ব্রাউজারের জগতে নতুন যুগের সূচনা হয়। এই ব্রাউজারে ইউজাররা স্পিড, ইজি টু ইউজ এবং এক্সটেনশন ব্যবহারের সুবিধা একত্রে পায়। বর্তমানে Google Chrome বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে পরিচিত।

এই দীর্ঘ ইতিহাসে ওয়েব ব্রাউজারের অনেক পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য একই থেকে গেছে। আর তা হলো ইন্টারনেটের তথ্যকে আমাদের চোখের সামনে সহজভাবে উপস্থাপন করা।

ওয়েব ব্রাউজার কিভাবে কাজ করে?

ওয়েব ব্রাউজার এমন একটি সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর রিকোয়েস্ট অনুযায়ী ওয়েব সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা পড়ার উপযোগীভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। আপনি যখন ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে একটি ওয়েব এড্রেস (URL) টাইপ করেন, তখন ব্রাউজার সেই ওয়েব সার্ভারে একটি রিকোয়েস্ট পাঠায়। একে বলা হয় HTTP বা HTTPS রিকোয়েস্ট। 

HTTP Hypertext Transfer Protocol) হচ্ছে সাধারণ প্রোটোকল। এখানে ডেটা এনক্রিপ্ট করা হয় না। আর HTTPS  (Hypertext Transfer Protocol Secure) প্রোটোকলে ডেটাকে নিরাপদ রাখতে SSL বা TLS এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়। এজন্য ব্রাউজার যখন একটি সিকিউর ওয়েবসাইট খোলে তখন HTTPS ব্যবহার করে।

ওয়েব ব্রাউজারকে মুলত HTTP ক্লায়েন্ট বা “User Agent” বলা হয় কারণ এটি ব্যবহারকারীর পক্ষে ওয়েব সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজনীয় ডেটা রিকোয়েস্ট করে। রিকোয়েস্ট একসেস পেয়ে গেলে ব্রাউজার একটি ওয়েব পেজ লোড করে। এসময় ব্রাউজার HTML ফাইলসহ,  CSS (স্টাইলিং ফাইল), JavaScript (ইন্টারঅ্যাকটিভ এলিমেন্ট), ছবি (JPG, PNG), ফন্ট এবং ভিডিওসহ অন্যান্য ডেটা সার্ভার থেকে ডাউনলোড করে। এগুলো লোড হওয়ার পর ব্রাউজার একটি রেন্ডারিং প্রসেস চালায়, যার ফলে ওয়েবপেজটি ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে যথাযথ স্ট্রাকচারে পূর্ণরূপে দৃশ্যমান হয়।

পাশাপাশি আপনি যখন একটি ওয়েব পেজে থাকা হাইপারলিঙ্কে ক্লিক করেন তখন ব্রাউজার নতুন একটি HTTP/HTTPS রিকোয়েস্ট পাঠায় এবং নতুন পেজের জন্য আবার একই ডেটা কালেক্ট ও রেন্ডার প্রসেস চালায়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত ঘটে, তাই আমাদের কাছে এটি অনেকটাই তাৎক্ষণিক বলে মনে হয়।

তাছাড়া ব্রাউজারগুলি সাধারণত একটি ইন্টারনাল ক্যাশ (cache) ম্যামোরি ব্যবহার করে, যেখানে পূর্বে লোড করা ওয়েবপেইজের এলিমেন্টগুলো অস্থায়ীভাবে স্টোর হয়। এর ফলে যদি আপনি একই ওয়েবপেজ পুনরায় ভিজিট করেন, তখন ব্রাউজার পুনরায় অনেক এলিমেন্ট সার্ভার থেকে না নিয়ে সরাসরি ক্যাশ থেকে লোড করে। এতে করে পেজ ব্রাউজিং স্পিড বেশ ফাস্ট হয়।

জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রকার ওয়েব ব্রাউজারের নাম:
  • গুগল ক্রোম (Google Chrome): বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বেশি ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজার।
  • অ্যাপল সাফারি (Apple Safari): অ্যাপল ডিভাইস যেমন—আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক কম্পিউটারের ডিফল্ট ব্রাউজার।
  • মাইক্রোসফট এজ (Microsoft Edge): মাইক্রোসফটের তৈরি আধুনিক ব্রাউজার, যা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ডিফল্ট হিসেবে থাকে।
  • মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla Firefox): একটি উন্মুক্ত উৎস (Open-source) এবং গোপনীয়তা রক্ষায় বেশ জনপ্রিয় ব্রাউজার।
  • অপেরা (Opera): বিল্ট-ইন অ্যাড ব্লকার এবং ভিপিএন সুবিধা সম্বলিত পুরোনো একটি জনপ্রিয় ব্রাউজার।
  • ব্রেভ (Brave): বিজ্ঞাপন ও ট্র্যাকার ব্লক করার সুবিধা দিয়ে দ্রুত ব্রাউজিংয়ের সুযোগ দেয়।
  • টর ব্রাউজার (Tor Browser): ব্যবহারকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। 
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট