সিনিয়র শিক্ষক
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪০ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২
বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব বলতে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনির প্রকৃতি, উৎপত্তি, উচ্চারণ, শ্রেণিবিভাগ, পরিবর্তন ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করাকে বোঝায়।
মানুষের মুখনিঃসৃত এবং ভাষায় অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত ক্ষুদ্রতম শ্রাব্য একককে ধ্বনি বলা হয়।
যেমন— অ, আ, ই, ক, খ, গ ইত্যাদি।
ধ্বনি মূলত দুই ধরনের—
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরে বায়ুপ্রবাহ কোনো উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয় না, তাকে স্বরধ্বনি বলে।
যেমন: অ, আ, ই, উ, এ, ও।
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান, মুখের আকৃতি ও ঠোঁটের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বের হওয়া বায়ু মুখের কোনো স্থানে বাধা বা সংকোচনের সম্মুখীন হয়, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
যেমন: ক, খ, গ, চ, ট, ত, প, ম ইত্যাদি।
মুখের যে স্থানে বায়ুপ্রবাহের বাধার মাধ্যমে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারিত হয়, তাকে উচ্চারণস্থান বলে।
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থানের উদাহরণ—
ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ কীভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তার ভিত্তিতেও ধ্বনিকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
যেমন—
উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কম্পিত হলে ঘোষধ্বনি এবং কম্পিত না হলে অঘোষধ্বনি বলা হয়।
ঘোষ: গ, ঘ, জ, দ, ব ইত্যাদি।
অঘোষ: ক, খ, চ, ত, প ইত্যাদি।
উচ্চারণের সময় কম বায়ু নির্গত হলে অল্পপ্রাণ এবং বেশি বায়ু নির্গত হলে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলা হয়।
উদাহরণ:
ধ্বনি হলো উচ্চারিত ভাষার শ্রুত একক, আর বর্ণ হলো সেই ধ্বনির লিখিত প্রতীক।
উদাহরণ: আমরা মুখে ‘ক’ উচ্চারণ করি—এটি ধ্বনি; লেখার সময় ক যে চিহ্ন ব্যবহার করি, সেটি বর্ণ।
সময়ের সঙ্গে ভাষার ধ্বনির পরিবর্তন ঘটতে পারে। বাংলা ভাষায় ধ্বনির পরিবর্তনের ফলে অনেক শব্দের উচ্চারণ ও রূপ বদলেছে।
যেমন, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও উচ্চারণগত প্রক্রিয়ায় শব্দের ধ্বনি পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনে স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্যঞ্জনধ্বনি অনেক সময় স্বরধ্বনির সাহায্যে উচ্চারিত হয়।
যেমন: ক + আ = কা, ক + ই = কি।
বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয় হলো ভাষার ধ্বনির উৎপত্তি, উচ্চারণ, শ্রেণিবিভাগ, উচ্চারণস্থান, উচ্চারণের প্রকৃতি, ঘোষ-অঘোষ, অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনি, ধ্বনি ও বর্ণের সম্পর্ক এবং ধ্বনির পরিবর্তন।
সহজে মনে রাখার সূত্র:
ধ্বনি → স্বর/ব্যঞ্জন → উচ্চারণস্থান → উচ্চারণের প্রকৃতি → ঘোষ/অঘোষ → অল্পপ্রাণ/মহাপ্রাণ → ধ্বনির পরিবর্তন।