সহকারী শিক্ষক
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১
পরিচিতি
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ইসলামি চিন্তাবিদ, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আন্দোলনের নেতা এবং গণমানুষের নেতা। তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর জনপ্রিয় উপাধি ছিল “মজলুম জননেতা”।
জন্ম ও শৈশব
মাওলানা ভাসানী ১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী শরাফত আলী খান। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হন।
রাজনৈতিক জীবন
মাওলানা ভাসানী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করেন।
তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। পরে দলটির নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে তাঁর ঐতিহাসিক বক্তব্য বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা
মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানি শাসন ও পূর্ব বাংলার প্রতি বৈষম্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দাবির প্রতি তিনি দৃঢ় সমর্থন জানান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন।
কৃষক-শ্রমিকের নেতা
ভাসানী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলতেন। কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ছিল তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ফারাক্কা আন্দোলন
স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলাদেশের স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যান। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদী ও কৃষির ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির প্রতিবাদে তিনি ১৯৭৬ সালে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন।
মৃত্যু
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাহিত করা হয়।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
উপাধি: মজলুম জননেতা
জন্ম: ১২ ডিসেম্বর ১৮৮০
জন্মস্থান: ধানগড়া, সিরাজগঞ্জ
মৃত্যু: ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬
প্রধান আদর্শ: শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম
প্রধান লক্ষ্য: কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা
স্মরণীয় ঘটনা: কাগমারী সম্মেলন ও ফারাক্কা লং মার্চ
সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন
মাওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলার গণমানুষের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর আজীবন সংগ্রাম তাঁকে ইতিহাসে “মজলুম জননেতা” হিসেবে অমর করে রেখেছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।