লাউ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর শীতকালীন সবজি, যা বর্তমানে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কল্যাণে প্রায় বারোমাসই চাষ করা যাচ্ছে [১.২.৭]। লাউয়ের পাশাপাশি এর কচি ডগা ও পাতাও শাক হিসেবে মানুষের অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য [১.৩.৫]।
নিচে মাঠ পর্যায়ে বা বাড়ির আঙিনায় লাউ চাষের আধুনিক পদ্ধতি ও ছবি তুলে ধরা হলো:
লাউ চাষের আধুনিক পদ্ধতি
- মাটি ও জমি নির্বাচন: সুনিষ্কাশিত এবং প্রচুর জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি লাউ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী [১.১.৫, ১.৩.৮]।
- চারা তৈরি ও রোপণ: ভালো ফলনের জন্য প্রথমে পলিব্যাগে সমপরিমাণ মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণ দিয়ে চারা তৈরি করে নেওয়া ভালো [১.১.২, ১.২.৩]। বীজ বপনের আগে ৮-১০ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত অঙ্কুরোদগম হয় [১.২.৬]। চারা ১৬-১৭ দিন বয়সের হলে তা মূল মাদার (গর্ত) মাটিতে রোপণ করতে হয় [১.৩.৫]।
- মাচা তৈরি (Trellis System): লাউ লতানো উদ্ভিদ হওয়ায় এর কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে হলে অবশ্যই বাঁশের তৈরি উঁচু মাচা বা জালের ব্যবস্থা করতে হবে [১.২.৬, ১.৩.১]। মাটিতে লাউ চাষ করলে ফলের একদিক বিবর্ণ হয়ে বাজারমূল্য কমে যায় এবং দ্রুত পচন ধরার আশঙ্কা থাকে [১.৩.১]।
- সেচ ও পরাগায়ন: লাউ গাছ পানির প্রতি খুবই সংবেদনশীল, তাই নিয়মিত কিন্তু পরিমিত সেচ দিতে হবে [১.১.৩]। ফলন কয়েক গুণ বাড়াতে লাউ গাছে কৃত্রিম পরাগায়ন বা হ্যান্ড পলিনেশন (সকালে পুরুষ ফুল নিয়ে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে ঘষে দেওয়া) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।