জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, যার একটি অন্যতম রূপ হলো তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক শীত (Severe Cold Waves)। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে (যেমন: পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর) শীতের তীব্রতা এবং ঘন কুয়াশার স্থায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র শীত এবং এর প্রভাবের মূল বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের কারণ
- জেট স্ট্রিমের পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলের 'জেট স্ট্রিম' (উচ্চস্তরের বায়ুপ্রবাহ) দুর্বল বা আঁকাবাঁকা হয়ে পড়ে। এর ফলে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চলের অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস সহজেই দক্ষিণ এশিয়ার দিকে নেমে আসে।
- টানা ঘন কুয়াশা (Dense Fog): জলবায়ুর ভারসাম্যহীনতার কারণে শীতকালে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি দীর্ঘ সময় ধরে ঘন কুয়াশা আটকে থাকে। এর ফলে সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারে না এবং দিনের বেলাতেও তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
তীব্র শীতের ক্ষতিকর প্রভাব
- জনজীবন স্থবির ও শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট: তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায়। দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষকেরা কাজে বের হতে পারেন না, ফলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়।
- ফসলের ক্ষতি (কোল্ড ইনজুরি): কুয়াশা আর সূর্যের আলোর অভাবে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়, আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইট বা মড়ক রোগ দেখা দেয় এবং সরিষাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
- শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব: শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
- যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত: ঘন কুয়াশার কারণে সড়কপথ, নৌপথ ও আকাশপথে দৃষ্টিসীমা (Visibility) কমে যায়, যার ফলে প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে এবং ফেরি ও বিমান চলাচল ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকে