সুখী মানুষ’ প্রখ্যাত নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শিক্ষণীয় নীতিপ্রধান নাটিকা। [
1,
2]
নিচে এই নাটিকার মূল কথা, চরিত্র এবং কিছু দৃশ্যপট তুলে ধরা হলো:
নাটিকার মূল ভাব (কিছু কথা)
- মূল বার্তা: অন্যায়ভাবে অর্জিত ধন-সম্পদ মানুষকে কখনো প্রকৃত সুখ দিতে পারে না। পক্ষান্তরে, সৎ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনযাপন করলে মনে যে শান্তি মেলে, সেটাই আসল সুখ। [1]
- কাহিনি সংক্ষেপ: নাটকের প্রধান চরিত্র মোড়ল গ্রামের সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে, অত্যাচার করে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হয়েছে। কিন্তু তার মনে কোনো শান্তি নেই, সে এক কঠিন রোগে আক্রান্ত। কবিরাজ তার রোগমুক্তির জন্য নিদান দেন—কোনো একজন সম্পূর্ণ ‘সুখী মানুষের’ জামা এনে মোড়লের গায়ে দিতে হবে। কিন্তু সারা গ্রাম খুঁজেও এমন কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ সবারই কোনো না কোনো অভাব বা দুঃখ রয়েছে। অবশেষে বনের ধারে এক কাঠুরের সন্ধান মেলে, যে নিজেকে সম্পূর্ণ সুখী দাবি করে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন দেখা যায় সেই সুখী মানুষের গায়ে দেওয়ার মতো কোনো জামা (ফতুয়া) বা সম্পদই নেই! [1, 2, 3]
নাটিকার মূল চরিত্রসমূহ
- মোড়ল (বয়স ৫০): অত্যাচারী, লোভী এবং অসুখে আক্রান্ত গ্রামের প্রধান।
- কবিরাজ (বয়স ৬০): চিকিৎসক, যিনি নাড়ি পরীক্ষা করে মোড়লের চিকিৎসার উপায় খোঁজেন।
- হাসু (বয়স ৪৫) ও রহমত (বয়স ২০): মোড়লের আত্মীয় ও বিশ্বাসী লোক।
- সুখী মানুষ (লোক, বয়স ৪০): বনের কাঠুরে, যার কোনো ধন-সম্পদ নেই কিন্তু মনে গভীর শান্তি আছে।