Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

রবীন্দ্রনাথের মতোই পাঁচ নাম্বার বাড়ির তিন ভাই পড়তেন জোব্বা।অবনীন্দ্রনাথ মাঝে মাঝে ধুতি,লুংগি পড়তেন।

ঠাকুরবাড়ির বাবুদের সাজগোজ ও মন-মরজি।


কথায় আছে না "মেজাজটাই তো আসল রাজা।" কলকাত্তাইয়া বাবুরা রাজাগজা না হলেও তাদের মেজাজটা ছিল একেবারে রাজাদের মতন।একশ টাকার নোট পুড়িয়ে সিগারেট লহোয়া,গোলাপজল,আতর দিয়ে জলশৌচ,মুক্তাভষ্মের চূর্ন দিয়ে পান আরো কত কী!!


ঠাকুরবাড়ির বাবুরাও পিছিয়ে ছিলেন না। গোপীমোহন ঠাকুর লক্ষ টাকার তোড়া নিয়ে ক্যাশে বসতেন।তিনি কোথাও গেলে সেই তোড়া কয়েকজন মিলে বইতো।গোপীমোহন এর ছেলে চন্দ্রকুমারের পত্রিকা পড়ার জন্য প্রতিদিন পা্ঁচজন করে লোক থাকত। যার পত্রিকা পড়া পছন্দ হতো একশো টাকা বখশিশ দিতেন। এছাড়াও তার ছিল খাওয়ার সখ।প্রতিদিন সদর উঠনো সারি ধরে উনুন জ্বালিয়ে দেশি বিদেশী বিভিন্ন দেশের রান্না হতো।একসাথে অনেকগুলো দেশের রান্না হতে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতেন।এছাড়া ও রাস্তা দিয়ে কোন বিদেশী গেলে তাকে ধরে এনে ভারতীয় পোষাক পরাতেন ও ভারতীয় খাবার খাওয়াতেন।এরপর তাকে বহুমূল্য কোন উপহার দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিতেন।যাবার সময় কোন সাহেব করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে তিনি ভারতীয় প্রথায় নমস্কার জানাতেন।


কল্যানাক্ষ বন্দোপাধ্যায় লিখেছেন,"ভারতীয়তা চন্দ্রকুমারের নেশার মতো ছিল।যদিও ইংরেজমহলে তার প্রভাব অসামান্য ছিল।"


রান্না ছাড়াও চন্দ্রকুমারের ছিল দাবার নেশা।ভালো দাবাড়ুও ছিলেন তিনি।ছোটলাট সেসময় প্রতিদিন দাবা খেলতে আসতেন চন্দ্রকুমারের বাড়ি।বারবারই হেরে যেতেন।১৮২৯-৩০ সালে চন্দ্রকুমার বিরাট আকারে দাবা খেলার আয়োজন করেন।সারা ভারতবর্ষ থেকে দাবাড়ু তাতে উপস্থিত হয়।চারমাস ধরে খেলা হয়েছিল।যাবার সময় প্রত্যেককেই চন্দ্রকুমার হাতির দাঁতের তৈরি দাবার ছক ও ঘুঁটি ও নানা জিনিসপত্র উপহার দিয়েছিলেন।রংপুরের মহারাণীর ও একবার দাবা খেলতে চন্দ্রকুমার কে তার মহলে নিমন্ত্রন করলেন।তবে তারা কেউ কারো মুখ দেখলেন না।কারণ রাণী থাকেন পর্দার আড়ালে৷তিন দিন ধরে খেলা চললো।কেউ জিতলেন ও না,হারলেন ও না৷চন্দ্রকুমার রাণীর বুদ্ধিমত্তার খুব প্রশংসা করলেন।তারা ভাইবোন পাতলেন।রাণী চন্দ্রকুমারকে উপহার দিলেন পঁচিশ থালা মিষ্টি ও এক হাজার টাকা ও চন্দ্রকুমার বোনকে দিলেন একশো থালা মিষ্টি ও পাঁচ হাজার টাকা।হরিমোহন ঠাকুরের ছিল লক্ষ জপমালা।সেই জপমালার প্রতিটি জপ সোনার প্রবাল পাথর বসানো ছিল। হরিমোহন ঠাকুর অলৌকিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন।একবার দিনাজপুরে এক মহিলার অলৌকিতায় বিশ্বাস করে তাকে বিশাল জমি দান করেছিলেন।গোপিমোহন ঠাকুর স্ত্রীকে রুপার পালংক বানিয়ে উপহার দিয়েছিলেন।


মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট