Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র। এখানে সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসন ক্ষমতা আইনসভার (সংসদের) কাছে দায়বদ্ধ একটি মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত সরকার বলে। এই ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে দায়ী থাকে।
 বিস্তারিত আলোচনা: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা প্রথম শুরু হয়। বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র। এখানে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং তাঁদের পক্ষে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
• গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো:
◦ প্রকৃতি: এককেন্দ্রিক ও সংসদীয়।
◦ নির্বাহী ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত।
◦ রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান: রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান (State Head) এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান (Head of Government)।
◦ এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা: 'এককেন্দ্রিক' মানে হলো পুরো দেশ একটিই কেন্দ্র (ঢাকা) থেকে পরিচালিত হয়। এখানে কোনো আলাদা রাজ্য বা প্রাদেশিক সরকার নেই।
• পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট এবং এর নাম জাতীয় সংসদ।
২. নির্বাহী বিভাগ: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
ক. রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি হলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে সম্মান লাভ করেন।
• নির্বাচন ও মেয়াদ: রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তাঁর মেয়াদ ৫ বছর এবং তিনি একটানা দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না। রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর। তিনি মূলত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন।
• গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি:
◦ প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া।
◦ সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দেওয়া।
◦ যেকোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা মওকুফ বা হ্রাস করা।
◦ প্রতিরক্ষা বাহিনীর (সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী) সর্বাধিনায়ক হিসেবে বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ দেওয়া।
• সহজে বোঝার কৌশল: রাষ্ট্রপতি হলেন একটি পরিবারের মুরুব্বি বা অভিভাবকের মতো। পরিবারের সব কাজ তাঁর নামেই হয়, কিন্তু মূল সিদ্ধান্ত নেন বড় সন্তান (প্রধানমন্ত্রী)।
খ. প্রধানমন্ত্রী (সরকারের স্তম্ভ)
প্রধানমন্ত্রী হলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান এবং নির্বাহী ক্ষমতার মূল অধিকারী। সংসদ সদস্যদের অধিকাংশের আস্থাভাজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর। তিনি মন্ত্রিসভার নেতা এবং সংসদেরও নেতা। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এলে পুরো মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়।
• গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি:
◦ মন্ত্রিসভা গঠন এবং মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন।
◦ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ।
◦ জাতীয় বাজেটের তদারকি এবং শাসনকার্যের সমন্বয়।
• সাধারণ ভুল: অনেকে মনে করেন রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, কিন্তু সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে।
৩. বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো
রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে যে দপ্তরগুলো রয়েছে, তাকেই প্রশাসনিক কাঠামো বলে।
• মন্ত্রণালয় (Ministry): সরকারের নীতি-নির্ধারণী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক একক, যা একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
• অধিদপ্তর (Directorate): মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কার্যকরী সংস্থা, যা মন্ত্রণালয়ের নীতি ও পরিকল্পনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করে।
সহজে মনে রাখার উপায়:
• মন্ত্রণালয় = মাথা (চিন্তা করে, সিদ্ধান্ত নেয়)
• অধিদপ্তর = হাত (কাজ করে, বাস্তবায়ন করে)
পরীক্ষার টিপস:
1. মন্ত্রণালয় নীতি প্রণয়ন করে \rightarrow অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে (এই পার্থক্যটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)।
2. মন্ত্রণালয়ের প্রধান মন্ত্রী (রাজনৈতিক ব্যক্তি), অধিদপ্তরের প্রধান মহাপরিচালক (সরকারি আমলা)।
3. বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৩টি মন্ত্রণালয় রয়েছে।
প্রশাসনিক স্তরায়ন: প্রশাসনিক কাঠামোর দুটি স্তর—কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়) এবং মাঠ প্রশাসন। সচিবালয় — এক নজরে

সচিবালয় বাংলাদেশের প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু, যাকে প্রশাসনের স্নায়ুকেন্দ্র বা মস্তিষ্ক বলা হয়।

প্রধান কার্যাবলি:

নীতি নির্ধারণ: সচিবালয় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এটি মূলত সরকারের "থিংক ট্যাংক" হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

পরিকল্পনা প্রণয়ন: প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এখানেই তৈরি করা হয়।

পরামর্শ প্রদান: সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান সচিব, স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে নীতি নির্ধারণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বাস্তবায়ন ও সমন্বয়: কেন্দ্রে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হয় এবং সচিবালয় এই কাজের সমন্বয় করে।

অফিস ব্যবস্থাপনা: মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যাবলি পরিচালনা, কর্মচারী ব্যবস্থাপনা এবং দাপ্তরিক ফাইল সংরক্ষণের দায়িত্বও সচিবালয় পালন করে।

তদারকি: মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কি না, তা সচিবালয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।

সহজ কথায়: সচিবালয় দেশ পরিচালনার "মানচিত্র" তৈরি করে, আর মাঠ প্রশাসন সেটি বাস্তবে কার্যকর করে।

• জেলা প্রশাসক (DC)-এর কাজ:জেলা প্রশাসক হলেন জেলার মূল প্রশাসনিক স্তম্ভ এবং মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রধান প্রতিনিধি ।
◦ প্রশাসনিক কাজ: কেন্দ্র থেকে আসা সকল সরকারি আদেশ ও সিদ্ধান্ত জেলায় বাস্তবায়ন করা এবং জেলার সকল অফিসের কাজের সমন্বয় করা।
• রাজস্ব ও আর্থিক কাজ: জেলার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বা ‘কালেক্টর’ হিসেবে খাজনা আদায়, ভূমি উন্নয়ন ও জেলা কোষাগার পরিচালনা করা।
• আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা: জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
• উন্নয়নমূলক কাজ: জেলায় শিক্ষা, কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তদারকি ও বাস্তবায়ন করা।
• স্থানীয় শাসন: উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের কাজের তদারকি ও সমন্বয় সাধন করা ।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বন্যা বা খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা ।
• অন্যান্য দায়িত্ব: আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, সংবাদপত্রের নিবন্ধন এবং জেলা সংক্রান্ত তথ্যাদি সরকারকে অবহিত করা ।
• বাস্তব জীবনের উদাহরণ: আপনার এলাকার ইউএনও (UNO) হলেন উপজেলা পর্যায়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি সরাসরি জনগণের সাথে প্রশাসনিক কাজ করেন।
• পরিভাষা: সচিব (মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান), ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী অফিসার)।
৪. আইনসভা: জাতীয় সংসদ
• সহজ সংজ্ঞা: বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। এটি এক কক্ষবিশিষ্ট এবং ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
• গঠন ও মেয়াদ: ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন এবং ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। সংসদের মেয়াদ ৫ বছর এবং এর প্রধান হলেন স্পিকার।
• গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি:
◦ নতুন আইন তৈরি ও পুরাতন আইন সংশোধন করা।
◦ সরকারের আয়-ব্যয় (বাজেট) নিয়ন্ত্রণ করা।
◦ সংবিধান সংশোধন করা।
• পরীক্ষায় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ: সংসদের অধিবেশন শুরুর জন্য কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন, একে ‘কোরাম’ বলা হয়।
৫. বিচার বিভাগ: সুপ্রিম কোর্ট
আইন ভঙ্গকারীকে দণ্ড দেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ বিচারালয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত।
• গঠন: সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ—আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ। রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দান করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করতে পারেন।
১. হাইকোর্ট বিভাগের কাজ ও ক্ষমতা
• মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও রিট এখতিয়ার (Writ Jurisdiction): সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা বহাল করতে হাইকোর্ট বিভাগ ৫ ধরনের রিট (যেমন: হেবিয়াস কর্পাস, পরমাদেশ, নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি) জারি করতে পারে।হাইকোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রিট   সহজ ব্যাখ্যা ও বাস্তব উদাহরণ
1. ম্যানডেমাস রিট (Mandamus)
অর্থ: "তুমি করতে বাধ্য"
কখন ব্যবহার হয়?
যখন কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সংস্থা তার আইনি দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করে বা গড়িমসি করে, তখন আদালত তাকে সেই কাজ করতে বাধ্য করতে ম্যানডেমাস রিট জারি করে।
বাস্তব উদাহরণ:
রহিম একটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন। কিন্তু বিভাগীয় কর্মকর্তা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে যোগদান করতে দিচ্ছেন না। রহিম আদালতে গেলে আদালত ম্যানডেমাস রিট জারি করে কর্মকর্তাকে তাকে যোগদান করাতে বাধ্য করবে।
2. সার্টিওয়ারি রিট (Certiorari)
অর্থ: "নথিপত্র আনা হোক / পুনর্বিচার করা হোক"
কখন ব্যবহার হয়?
যখন কোনো নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনের বাইরে গিয়ে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো রায় দেয়, তখন উচ্চ আদালত সেই রায় বাতিল বা সংশোধন করতে এই রিট জারি করে।
বাস্তব উদাহরণ:
করিমের বিরুদ্ধে একটি মামলায় নিম্ন আদালত আইনবিরুদ্ধভাবে এবং তার কথা না শুনেই রায় দিয়ে দিল। করিম উচ্চ আদালতে গেলে আদালত সার্টিওয়ারি রিট দিয়ে ওই মামলার নথি তলব করে রায়টি বাতিল করে দিতে পারে।
3. প্রহিবিশন রিট (Prohibition)
অর্থ: "নিষেধ করা হলো / থামো"
কখন ব্যবহার হয়?
যখন কোনো নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কোনো মামলার বিচার করতে যাচ্ছে — কিন্তু রায় এখনো হয়নি, তখন উচ্চ আদালত তাদের থামিয়ে দিতে এই রিট দেয়।
 সার্টিওয়ারি বনাম প্রহিবিশন পার্থক্য:
সার্টিওয়ারি = রায় হওয়ার পরে বাতিল করা
প্রহিবিশন = রায় হওয়ার আগেই থামিয়ে দেওয়া
বাস্তব উদাহরণ:
একটি শ্রম আদালত এমন একটি মামলার বিচার শুরু করল, যেটি আসলে দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এই অবস্থায় উচ্চ আদালত প্রহিবিশন রিট দিয়ে শ্রম আদালতকে ওই মামলা চালাতে নিষেধ করে দেবে।
4. হেবিয়াস কর্পাস রিট (Habeas Corpus)
অর্থ: "দেহ উপস্থিত করো"
কখন ব্যবহার হয়?
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিট। যখন কাউকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার বা আটক রাখা হয়, তখন আদালত এই রিট দিয়ে কর্তৃপক্ষকে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে বলে এবং আটকের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলে।
বাস্তব উদাহরণ:
সালাম সাহেবকে পুলিশ কোনো অভিযোগ বা পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করে থানায় আটক রেখেছে। তার পরিবার উচ্চ আদালতে গেলে আদালত হেবিয়াস কর্পাস রিট জারি করে পুলিশকে আদেশ দেবে  "সালামকে আদালতে হাজির করো এবং কারণ ব্যাখ্যা করো।" কারণ না দেখাতে পারলে তাকে মুক্তি দিতে হবে।
5. কোওয়ারেন্টো রিট (Quo Warranto)
অর্থ: "কোন অধিকারে / কী ক্ষমতাবলে?"
কখন ব্যবহার হয়?
যখন কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বা যোগ্যতা ছাড়াই কোনো সরকারি পদ দখল করে আছে, তখন আদালত তাকে জিজ্ঞেস করে  "তুমি এই পদে আছ কোন অধিকারে?"  এবং সন্তোষজনক উত্তর না পেলে তাকে পদ থেকে অপসারণ করে।
বাস্তব উদাহরণ:
একটি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু পরে জানা গেল তার প্রয়োজনীয় নাগরিকত্বের যোগ্যতা নেই। একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতে গেলে আদালত কোওয়ারেন্টো রিট দিয়ে ওই চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করবে  "কোন ক্ষমতাবলে তুমি এই পদে আছ?" প্রমাণ করতে না পারলে পদ বাতিল।
• আদি এখতিয়ার (Original Jurisdiction): কাস্টমস, কোম্পানি আইন, অ্যাডমিরালটি (নৌ-সংক্রান্ত বিষয়), ট্রেডমার্ক ও বিয়ে/পারিবারিক বিরোধের মতো কিছু সুনির্দিষ্ট মামলা হাইকোর্ট বিভাগ সরাসরি প্রথম আদালত হিসেবে গ্রহণ ও বিচার করতে পারে।
• আপিল এখতিয়ার (Appellate Jurisdiction): অধস্তন আদালত (জেলা ও দায়রা জজ আদালত) থেকে আসা ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি করে।
• পর্যালোচনা বা রিভিশনাল এখতিয়ার (Revision Jurisdiction): অধস্তন আদালতের আইনি ভুল বা বিচারিক ত্রুটি সংশোধন করতে মামলার নথি তলব করে তা পরীক্ষা করতে পারে।
• অধস্তন আদালত তত্ত্বাবধান: দেশের সকল জেলা ও বিচারিক আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে।
২. আপিল বিভাগের কাজ ও ক্ষমতা
• আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি (Appellate Jurisdiction): হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিল গ্রহণ ও চূড়ান্ত রায় প্রদান করে।
• সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ (Power to do Complete Justice): সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের বিচারাধীন কোনো বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বা সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশ, আদেশ বা পরোয়ানা জারি করতে পারে।
• পরামর্শমূলক এখতিয়ার (Advisory Jurisdiction): সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ বা জটিল কোনো আইনি বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের পরামর্শ চাইলে আপিল বিভাগ সে বিষয়ে মতামত প্রদান করে।
• নিজস্ব রায় পুনর্বিবেচনা (Review Jurisdiction): সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগ তার নিজের দেওয়া কোনো পূর্ববর্তী রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা (Review) করতে পারে।
• আইনের বাধ্যবাধকতা (Binding Effect): সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগসহ দেশের সকল আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
• পার্থক্য: হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে; আর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়। হাইকোর্টকে সংবিধানের রক্ষক বলা হয়।
গ.  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২০টি তথ্য (SSC উপযোগী)
1. বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল, ১৯৭১।
2. বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্রী ও এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
3. রাষ্ট্রপতির পদের জন্য সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর।
4. রাষ্ট্রপতি একটানা দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেন না।
5. রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে 'অভিশংসন' পদ্ধতিতে তাকে সরানো যায়।
6. প্রধানমন্ত্রীকে সরকারের স্তম্ভ বা শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।
7. প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে পুরো মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়।
8. মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকে।
9. বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু হলো সচিবালয়।
10. সচিবালয়ের প্রতিটি मंत्रालয়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন সচিব।
11. বিভাগীয় প্রশাসনের প্রধান হলেন বিভাগীয় কমিশনার।
12. জেলা প্রশাসনের প্রধান হলেন জেলা প্রশাসক (DC)।
13. জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ (৩০০+৫০)।
14. জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর এবং কোরাম সংখ্যা ৬০ জন।
15. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
16. জাতীয় স্বার্থের রক্ষক হিসেবে পরিচিত হলেন প্রধানমন্ত্রী।
17. সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন।
18. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিম কোর্ট।
19. সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর।
20. বিচার বিভাগ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের রক্ষক হিসেবে কাজ করে।
ঙ. পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন (Revision Sheet)
• সরকার: সংসদীয় পদ্ধতি, এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র, প্রজাতান্ত্রিক শাসন।
• রাষ্ট্রপতি: রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন।
• প্রধানমন্ত্রী: সরকার প্রধান, শাসন পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি।
• প্রশাসন: সচিবালয় (নীতি তৈরি) \rightarrow মাঠ প্রশাসন (বাস্তবায়ন)।
• আইনসভা: ৩৫০ সদস্যের জাতীয় সংসদ; কাজ: আইন প্রণয়ন ও বাজেট পাস।
• বিচার বিভাগ: সুপ্রিম কোর্ট; ২ বিভাগ (আপিল ও হাইকোর্ট); কাজ: ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার রক্ষা।



সাগর কর্মকার
সহকারী শিক্ষক
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট