জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) নির্ধারিত দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বইয়ের ৪র্থ অধ্যায়ের শেষ অংশ স্প্রেডশীট বিশ্লেষণ ও আমার হিসাব-নিকাশ গাণিতিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় হিসাব করার কৌশল শেখায়।
স্প্রেডশীট (Spreadsheet) শব্দের অর্থ হলো 'ছড়ানো পাতা বা বড় মাপের কাগজ'। অতীতে হিসাব-নিকাশের জন্য যে ছককাটা খাতা ব্যবহার করা হতো, তার ডিজিটাল রূপই হলো স্প্রেডশীট সফটওয়্যার।
১. স্প্রেডশীট সফটওয়্যারের পরিচিতি ও ইতিহাস
২. ওয়ার্কশিটের মূল উপাদানসমূহ
একটি ওয়ার্কবুক (Workbook)-এর ভেতরে এক বা একাধিক পেজ থাকে, যাকে ওয়ার্কশিট (Worksheet) বলে। একটি ওয়ার্কশিট প্রধানত ৩টি মৌলিক উপাদান নিয়ে গঠিত:
কলাম (Column): ওয়ার্কশিটের খাড়া বা উল্লম্ব (Vertical) ঘরগুলোকে কলাম বলা হয়। কলামগুলোকে ইংরেজি বর্ণমালা (A, B, C, ... AA, AB) দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
সারি (Row): ওয়ার্কশিটের আনুভূমিক (Horizontal) ঘরগুলোকে সারি বলা হয়। সারিগুলোকে সংখ্যা (1, 2, 3...) দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
সেল (Cell): কলাম ও সারির ছেদবিন্দুকে সেল বলা হয়।
সেল এড্রেস (Cell Address): কলামের নাম ও সারির সংখ্যা মিলিয়ে সেলের ঠিকানা লেখা হয়। উদাহরণস্বরূপ: A কলাম এবং 3 নম্বর সারির ছেদবিন্দুর সেল এড্রেস হলো A3।
৩. গাণিতিক হিসাব-নিকাশ ও সূত্র (Formulas & Functions)
স্প্রেডশীটে যেকোনো গাণিতিক হিসাব বা সূত্র লিখতে হলে অবশ্যই সমান চিহ্ন (=) দিয়ে শুরু করতে হয়।
মৌলিক গাণিতিক অপারেশন
যোগ করা (Addition):
বিয়োগ করা (Subtraction): =A1-B1
গুণ করা (Multiplication): =A1*B1
ভাগ করা (Division): =A1/B1
শতকরা নির্ণয় (Percentage): =A1*15% (যেমন: A1 সেলের ৫০0 টাকার ১৫% বের করতে)
পরীক্ষায় আসার মতো বহুল ব্যবহৃত ফাংশনসমূহ
| ফাংশনের নাম | কাজের বিবরণ | উদাহরণ/সূত্র |
| SUM | রেঞ্জের ভেতরের সব সংখ্যার মোট যোগফল | =SUM(A1:A10) |
| AVERAGE | নির্দিষ্ট রেঞ্জের গড় মান বের করা | =AVERAGE(B1:B5) |
| MAX | রেঞ্জের সর্বোচ্চ মান খুঁজে বের করা | =MAX(C1:C20) |
| MIN | রেঞ্জের সর্বনিম্ন মান খুঁজে বের করা | =MIN(C1:C20) |
৪. স্প্রেডশীট ব্যবহারের সুবিধা ও প্রয়োগ
স্বয়ংক্রিয় পুনঃহিসাব (Auto-recalculation): কোনো সেলের মূল ডেটা পরিবর্তন করলে ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে যায়।
সঠিকতা ও গতি: বিশাল হিসাব কয়েক সেকেন্ডে নির্ভুলভাবে করা সম্ভব।
গ্রাফ বা চার্ট (Chart/Graph): উপাত্তকে সহজে বোঝানোর জন্য বার চার্ট, পাই চার্ট বা কলাম চার্টে রূপান্তর করা যায় (Insert > Chart)।
প্রয়োগ ক্ষেত্র: পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতকরণ (রেজাল্ট শিট), কোম্পানির মাসিক বেতন বিবরণী (Payroll), বিদ্যুৎ বিল তৈরি এবং বাজেট প্রণয়ন।