সহকারী শিক্ষক
০১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে ভৌগোলিক বিস্তৃত এলাকা বা কাজের পরিধির ওপর ভিত্তি করে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়। নিচে এই ৫ প্রকার নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
সংজ্ঞা: এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে) ব্যক্তি কেন্দ্রিক ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক।
বৈশিষ্ট্য:
ব্যক্তির নিজস্ব ডিভাইসগুলোর (যেমন: স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ব্লুটুথ হেডফোন, স্মার্টওয়াচ) মধ্যে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সাধারণত Bluetooth, Wi-Fi hotspot, বা Zigbee প্রযুক্তির মাধ্যমে কানেক্ট হয়।
ব্যবহারের ক্ষেত্র: মোবাইল থেকে ল্যাপটপে ব্লুটুথের মাধ্যমে ছবি পাঠানো বা ওয়ারলেস ইয়ারফোনে গান শোনা।
সংজ্ঞা: একটি ছোট ভৌগোলিক এলাকা, যেমন—কোনো একটি কক্ষ, ভবন, স্কুল বা অফিসের ভেতরে থাকা কম্পিউটারগুলোর মধ্যে গঠিত নেটওয়ার্ক।
বৈশিষ্ট্য:
ডাটা স্থানান্তরের গতি অনেক দ্রুত (১০০ Mbps থেকে ১ Gbps পর্যন্ত)।
খরচ বেশ কম এবং পরিচালনা করা সহজ।
সাধারণত Ethernet Cable (ক্যাবল সংযোগ) বা Wi-Fi (WLAN) এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়।
ব্যবহারের ক্ষেত্র: কম্পিউটার ল্যাব, ব্যাংকের কোনো নির্দিষ্ট শাখা, বা কোনো অফিসের অভ্যন্তরীণ ডাটা ও প্রিন্টার শেয়ারিং।
সংজ্ঞা: এটি LAN-এর চেয়ে বড় কিন্তু MAN-এর চেয়ে ছোট একটি নেটওয়ার্ক। একাধিক কাছাকাছি থাকা LAN-কে একত্রে যুক্ত করে এই নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।
বৈশিষ্ট্য:
নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা ক্যাম্পাসের ভৌগোলিক সীমানার (১ থেকে ৫ কিমি) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
দ্রুতগতিসম্পন্ন ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে বিল্ডিংগুলোকে কানেক্ট করা হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তপোক্ত থাকে।
ব্যবহারের ক্ষেত্র: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বড় মিলিটারি বেস, বা কোনো কোম্পানির একাধিক ভবনের সমন্বিত নেটওয়ার্ক।
সংজ্ঞা: একটি সম্পূর্ণ শহর বা নির্দিষ্ট বড় এলাকা জুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে MAN বলে।
বৈশিষ্ট্য:
এটি একাধিক LAN এবং CAN-এর সমন্বয়ে গঠিত হয়।
ডাটা আদান-প্রদানের জন্য সাধারণত Fiber Optic Cable বা রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করা হয়।
গতি LAN-এর চেয়ে কিছুটা কম হলেও বেশ দ্রুত।
ব্যবহারের ক্ষেত্র: শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক, একটি শহরের মধ্যে থাকা ব্যাংকের শাখাগুলোর নেটওয়ার্ক বা সিটি কর্পোরেশনের ডিজিটাল কানেক্টিভিটি।
সংজ্ঞা: বিশ্বব্যাপী বা একটি বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চল (যেমন একাধিক দেশ বা মহাদেশ) জুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে WAN বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:
এর পরিধি সীমাহীন।
যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট (Satellites), সাবমেরিন ক্যাবল (Submarine Cables) এবং বড় বড় রাউটার ব্যবহার করা হয়।
গতি ও নিরাপত্তার ব্যাপ্তি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার চেয়ে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের ওপর বেশি নির্ভর করে।
ব্যবহারের ক্ষেত্র: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় WAN-এর উদাহরণ হলো ইন্টারনেট (Internet)। এছাড়া বহুজাতিক ব্যাংক বা এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক বুকিং সিস্টেম।