Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ

ওয়াই-ফাই ( W i - F i )

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) হলো একটি বেতার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি, যা ডিভাইসগুলোকে ইন্টারনেট বা লোকাল নেটওয়ার্কের সাথে তারবিহীনভাবে সংযুক্ত করে। এটি মূলত IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং Wi-Fi Alliance দ্বারা সার্টিফাইড।

“Wi-Fi” নামটি কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নয় (অনেকে “Wireless Fidelity” বললেও আসলে তা নয়)। এটি একটি ব্র্যান্ড নাম।

ইতিহাস

  • ১৯৮৫: যুক্তরাষ্ট্রের FCC ২.৪ GHz ব্যান্ডকে আনলাইসেন্সড ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে।
  • ১৯৯১-৯২: NCR/AT&T-এর WaveLAN এবং অস্ট্রেলিয়ার CSIRO-এর গুরুত্বপূর্ণ পেটেন্ট (জন ও’সালিভানের নেতৃত্বে)।
  • ১৯৯৭: IEEE প্রথম 802.11 স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করে (গতি মাত্র ২ Mbps)।
  • ১৯৯৯: 802.11b (১১ Mbps) ও 802.11a আসে। Wireless Ethernet Compatibility Alliance (পরে Wi-Fi Alliance) গঠিত হয় এবং “Wi-Fi” নামকরণ হয়।
  • Vic Hayes (IEEE 802.11 ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান) কে প্রায়ই “Father of Wi-Fi” বলা হয়।

কীভাবে কাজ করে?

ওয়াই-ফাই রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে রাউটার (Access Point) এবং ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করে।

প্রধান ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড:

ব্যান্ডরেঞ্জগতিবৈশিষ্ট্য
২.৪ GHzবেশি (দেয়াল ভেদ করে ভালো)ধীরবেশি হস্তক্ষেপ (মাইক্রোওয়েভ, ব্লুটুথ ইত্যাদি)
৫ GHzকমদ্রুতকম হস্তক্ষেপ, বেশি চ্যানেল
৬ GHzআরও কমখুব দ্রুতসবচেয়ে পরিষ্কার স্পেকট্রাম (Wi-Fi 6E ও পরবর্তী)

চ্যানেল:

  • ২.৪ GHz-এ সাধারণত ১৪টি চ্যানেল (বাংলাদেশ/ভারতে সাধারণত ১-১৩)। নন-ওভারল্যাপিং চ্যানেল: ১, ৬, ১১।
  • ৫ GHz ও ৬ GHz-এ অনেক বেশি চ্যানেল এবং বিস্তৃত ব্যান্ডউইথ (২০/৪০/৮০/১৬০/৩২০ MHz)।

Wi-Fi ভার্সনের বিবর্তন

জেনারেশনIEEE স্ট্যান্ডার্ডবছরসর্বোচ্চ তাত্ত্বিক গতিমূল বৈশিষ্ট্য
Wi-Fi 1802.11১৯৯৭২ Mbpsপ্রথম স্ট্যান্ডার্ড
Wi-Fi 2802.11b১৯৯৯১১ Mbpsব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা
Wi-Fi 3802.11g২০০৩৫৪ Mbpsঘরে জনপ্রিয়
Wi-Fi 4802.11n২০০৯~৬০০ MbpsMIMO প্রযুক্তি
Wi-Fi 5802.11ac২০১৩~৩.৫ GbpsMU-MIMO, Beamforming
Wi-Fi 6802.11ax২০১৯~৯.৬ GbpsOFDMA, ভিড় সামলানোর দক্ষতা
Wi-Fi 6E802.11ax + ৬ GHz২০২০+একই + ৬ GHzনতুন পরিষ্কার ব্যান্ড
Wi-Fi 7802.11be২০২৪~২৩-৪৬ Gbps৩২০ MHz চ্যানেল, ৪০৯৬-QAM, Multi-Link Operation (MLO)

Wi-Fi 8 (802.11bn) এখনো উন্নয়নাধীন এবং আনুমানিক ২০২৮ সালের দিকে আসবে। এটি মূলত অতি-উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা (Ultra High Reliability) এর উপর জোর দেবে।

Wi-Fi বনাম ব্লুটুথ

বিষয়Wi-Fiব্লুটুথ
মূল উদ্দেশ্যইন্টারনেট/নেটওয়ার্ক সংযোগডিভাইস-টু-ডিভাইস সংযোগ
রেঞ্জবেশি (কয়েক দশ মিটার থেকে শত মিটার)কম (সাধারণত ১০-১০০ মিটার)
গতিঅনেক বেশি (Gbps পর্যন্ত)কম (Mbps পর্যায়ে)
পাওয়ার খরচবেশিঅনেক কম
ডিভাইস সংখ্যাঅনেক বেশি একসাথেসীমিত

ব্যবহারের ক্ষেত্র

  • ঘর ও অফিসের ইন্টারনেট সংযোগ
  • স্মার্ট হোম ডিভাইস
  • গেমিং, ৪K/৮K স্ট্রিমিং, ভিডিও কল
  • পাবলিক হটস্পট
  • এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক

সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

সুবিধা: উচ্চ গতি, অনেক ডিভাইস একসাথে, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সহজ। সীমাবদ্ধতা: দেয়াল/বাধায় সিগন্যাল কমে যায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি (সঠিক এনক্রিপশন না থাকলে), পাওয়ার খরচ বেশি।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট