সহকারী শিক্ষক
১৪ জুন, ২০২৬ ০৬:১৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ জীব বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১৩
সপুষ্পক বা সপুষ্পক উদ্ভিদের জীবনচক্র (Life Cycle of Angiosperms) বেশ জটিল, কারণ এতে যৌন প্রজননের মাধ্যমে একটি নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়। এই চক্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো 'জনুক্রম' (Alternation of Generations)।
নিচে ধাপগুলো সহজভাবে বর্ণনা করা হলো:
১. পরাগায়ন (Pollination)
ফুল হলো উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। পরাগায়ন হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পরাগরেণু (Pollen Grains) ফুলের পুংদণ্ড বা পরাগধানী থেকে স্ত্রীস্তবকের গর্ভমুণ্ডে (Stigma) স্থানান্তরিত হয়। এটি বায়ু, পানি বা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ঘটে।
২. নিষেক (Fertilization)
গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণু পড়ার পর একটি পরাগনালী তৈরি হয়। এই নালীর মাধ্যমে পুং-গ্যামেট (Male Gamete) গর্ভাশয়ের ভেতরে ডিম্বকের (Ovule) কাছে পৌঁছায়। সেখানে ডিম্বাণুর সাথে পুং-গ্যামেটের মিলন ঘটে, যাকে নিষেক বলে। এর ফলে একটি জাইগোট (Zygote) তৈরি হয়।
৩. ভ্রূণ গঠন ও বীজ সৃষ্টি (Embryo and Seed Development)
নিষিক্ত ডিম্বকটি ক্রমে বীজে রূপান্তরিত হয়। জাইগোট থেকে ভ্রূণ (Embryo) গঠিত হয়, যা নতুন উদ্ভিদের প্রাথমিক রূপ। আর গর্ভাশয়টি বড় হয়ে ফলে পরিণত হয়, যা বীজের সুরক্ষা প্রদান করে।
৪. অঙ্কুরোদ্গম (Germination)
বীজ উপযুক্ত পরিবেশ (পানি, অক্সিজেন ও তাপমাত্রা) পেলে অঙ্কুরিত হয়। বীজের ভেতর থেকে ভ্রূণ বের হয়ে মাটির ভেতরে মূল এবং মাটির উপরে কাণ্ড ও পাতা তৈরি করে।
৫. পরিণত উদ্ভিদ (Mature Plant)
অঙ্কুরিত চারাগাছটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে পরিণত সপুষ্পক উদ্ভিদে রূপ নেয় এবং পুনরায় ফুল ফোটার মাধ্যমে জীবনচক্র চালু রাখে।
জীবনচক্রের সারসংক্ষেপ (প্রবাহ চিত্র)
পরিণত উদ্ভিদ → ফুল (পরাগ ও ডিম্বাণু) → পরাগায়ন → নিষেক → জাইগোট → বীজ ও ফল → অঙ্কুরোদ্গম → চারাগাছ → পরিণত উদ্ভিদ।
জনুক্রমের ধারণা: সপুষ্পক উদ্ভিদের জীবনচক্রে দুটি প্রধান পর্যায় থাকে:
১. রেণুধর জনু (Sporophyte Generation): এটি উদ্ভিদের প্রধান ও দৃশ্যমান দেহ, যা ডিপ্লয়েড (2n)।
২. লিঙ্গধর জনু (Gametophyte Generation): এটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, যা ফুল বা পরাগরেণুর ভেতরে থাকে এবং হ্যাপ্লয়েড (n)। এই দুই পর্যায়ের পর্যায়ক্রমিক আবর্তনই হলো জনুক্রম।