সহকারী শিক্ষক
১৪ জুন, ২০২৬ ০৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৮
কোকুন বা রেশম গুটি থেকে সুতা সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় 'রিলিং' (Reeling)। এই প্রক্রিয়ায় গুটি থেকে সূক্ষ্ম রেশম তন্তু আলাদা করা হয়। নিচে ধাপগুলো সহজভাবে দেওয়া হলো:
প্রথমে ভালো মানের গুটিগুলো বাছাই করা হয়। এরপর সেগুলোকে গরম পানিতে বা বাষ্পে (Steam) সেদ্ধ করা হয়। এর দুটি উদ্দেশ্য থাকে:
পোকা নিষ্ক্রিয় করা: গুটির ভেতরে থাকা পিউপা বা পোকাটি মারা যায়, যাতে সেটি বড় হয়ে গুটি ফুটো করে বেরিয়ে না আসে (গুটি ফুটো হলে সুতা ছিঁড়ে যায় এবং মান কমে যায়)।
আঠা বা সেরিসিন গলানো: রেশম সুতাগুলো প্রাকৃতিকভাবে একটি আঠালো পদার্থ দিয়ে জোড়া থাকে, যাকে 'সেরিসিন' (Sericin) বলে। গরম পানিতে সেদ্ধ করলে এই আঠা নরম হয়ে যায় এবং সুতাগুলো আলাদা করা সহজ হয়।
সেদ্ধ করার পর গুটির ওপরের জট পাকানো অংশগুলো ব্রাশ বা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সরিয়ে সুতার সূক্ষ্ম প্রান্তটি খুঁজে বের করা হয়। একটি গুটি থেকে প্রাপ্ত রেশম সুতা অত্যন্ত সরু হয়, তাই ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য কয়েকটি গুটির প্রান্ত একসাথে করা হয়।
কয়েকটি গুটির সুতার প্রান্ত একসাথে করে একটি ঘূর্ণায়মান রিল (Reel) বা চরকার সাহায্যে টানা হয়।
এভাবে কয়েকটি গুটির সুতা মিলে একটি শক্তিশালী এবং অবিচ্ছিন্ন রেশম সুতা তৈরি হয়।
এই পর্যায়ে প্রাপ্ত সুতাকে 'কাঁচা রেশম' (Raw Silk) বলা হয়।
সংগৃহীত কাঁচা রেশম সরাসরি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। এরপর এতে থাকা অবশিষ্ট আঠা পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লিচিং বা রং করা হয়। শেষে এই সুতাগুলো দিয়ে তাঁতে রেশমি কাপড় বোনা হয়।
একটি গুটি থেকে প্রাপ্ত সুতার দৈর্ঘ্য: একটি ভালো মানের রেশম গুটি থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৯০০ মিটার পর্যন্ত লম্বা অবিচ্ছিন্ন রেশম সুতা পাওয়া যেতে পারে!