সহকারী শিক্ষক
০৬ মে, ২০২৬ ০১:৩৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী (মারমা)
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ চতুর্থ
বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৪
মারমা সম্প্রদায় বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। তাদের জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। নিচে মারমা নৃ-গোষ্ঠী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ বিবরণ দেওয়া হলো:
১. ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যা
মারমারা প্রধানত বাংলাদেশের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করেন। তবে তাদের সবচেয়ে বড় অংশটি বান্দরবান জেলায় বসবাস করে। 'মারমা' শব্দটি এসেছে মিয়ানমারের প্রাচীন নাম 'ম্রায়মা' থেকে।
২. ধর্ম ও বিশ্বাস
ধর্ম: মারমারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের প্রতিটি গ্রামে একটি করে 'কিয়াং' (বৌদ্ধ মন্দির) থাকে।
উৎসব: তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হলো সাংগ্রাই (নববর্ষ উৎসব)। এই উৎসবে তারা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে আনন্দ করে, যা 'জলকেলি' নামে পরিচিত।
৩. সমাজ ব্যবস্থা
পিতৃতান্ত্রিক: মারমা সমাজ ব্যবস্থা মূলত পিতৃতান্ত্রিক, তবে পরিবারের নারীরা যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করেন এবং ঘরের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বংশপরম্পরা: তারা মূলত বোমাং সার্কেল ও মং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত। গ্রাম প্রধানকে তারা 'রোয়াজা' বলে ডাকেন।
৪. জীবিকা ও খাদ্য
কৃষিকাজ: তাদের প্রধান জীবিকা জুম চাষ। বর্তমানে তারা সমতল ভূমিতে লাঙ্গল দিয়ে চাষাবাদেও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
খাদ্য: তাদের প্রধান খাবার ভাত। এর পাশাপাশি মাছ, মাংস এবং প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি তারা পছন্দ করে। তাদের বিশেষ একটি মুখরোচক খাবারের নাম 'নাপ্পি' (শুঁটকি মাছের পেস্ট)।
৫. সংস্কৃতি ও পোশাক
পোশাক: মারমা নারীরা লুঙ্গির মতো এক ধরণের কাপড় পরেন যার নাম 'থামি' এবং উপরে যে ব্লাউজটি পরেন তাকে বলা হয় 'আঙ্গি'। পুরুষরা লুঙ্গি ও ফতুয়া পরেন।
ভাষা: মারমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে। তাদের ভাষাটি মূলত বর্মী ভাষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
৬. ঘরবাড়ি
তারা সাধারণত বাঁশ ও ছন দিয়ে মাচাংয়ের ওপর ঘর তৈরি করে বাস করে। বন্যপ্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং পাহাড়ের ঢালে বসবাসের সুবিধার জন্য এই বিশেষ ধরনের ঘর নির্মাণ করা হয়।
মারমাদের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বাংলাদেশের জাতিগত ঐক্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ জনপ্রিয়।