প্রভাষক
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ জীববিজ্ঞান ১ম পত্র
অধ্যায়ঃ চতুর্থ অধ্যায়: অণুজীব
ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র বেশ জটিল এবং এটি সম্পন্ন হতে প্রধানত দুটি পোষকের প্রয়োজন হয়: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা (যৌন জনন) এবং মানুষ (অযৌন জনন)।
নিচে সংক্ষেপে এর প্রধান ধাপগুলো তুলে ধরা হলো:
মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়া পরজীবী দুটি প্রধান অংশে বংশবৃদ্ধি করে:
হেপাটিক সাইজোগনি (যকৃতে): মশা কামড়ানোর পর পরজীবীর 'স্পোরোজোয়েট' রক্ত থেকে যকৃতে প্রবেশ করে। সেখানে তারা সংখ্যাবৃদ্ধি করে 'মেরোজোয়েট' তৈরি করে এবং যকৃতের কোষ ফেটে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে।
এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি (রক্তকণিকায়): মেরোজোয়েটগুলো লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে। এখানে তারা পর্যায়ক্রমে ট্রফোজোয়েট, সিজনট ইত্যাদি দশা অতিক্রম করে আরও সংখ্যাবৃদ্ধি করে। একসময় লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, যার ফলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।
যখন কোনো মশা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন রক্তের সাথে 'গ্যামিটোসাইট' মশার পেটে চলে যায়।
গ্যামেটোজেনেসিস ও নিষেক: মশার পাকস্থলীতে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট মিলিত হয়ে 'জাইগোট' তৈরি করে।
উওকিনেট ও উওসিস্ট: জাইগোটটি সচল 'উওকিনেট'-এ পরিণত হয় এবং মশার পাকস্থলীর প্রাচীরে অবস্থান নিয়ে 'উওসিস্ট' গঠন করে।
স্পোরোজোয়েট তৈরি: উওসিস্টের ভেতরে হাজার হাজার 'স্পোরোজোয়েট' তৈরি হয়। এগুলো একসময় মশার লালাগ্রন্থিতে জমা হয়।
পরবর্তীতে এই মশা যখন সুস্থ কোনো মানুষকে কামড়ায়, তখন লালার মাধ্যমে স্পোরোজোয়েটগুলো মানুষের রক্তে প্রবেশ করে এবং চক্রটি পুনরায় শুরু হয়।