Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় 'কর্নার ভিত্তিক শিখন'
প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় 'কর্নার ভিত্তিক শিখন' একটি অত্যন্ত আধুনিক ও শিশুতোষ পদ্ধতি। শ্রেণিকক্ষকে চারটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় ভাগ করে শিশুদের খেলার মাধ্যমে শেখানোই এর মূল লক্ষ্য।
নিচে এই চারটি কর্নার এবং এগুলোর গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
​১. চারটি কর্নারের বিস্তারিত বিবরণ
​ক. কল্পনার কর্নার (Imagination Corner)
​এই কর্নারটি শিশুদের সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের জন্য তৈরি। এখানে ঘরকন্নার জিনিসপত্র (হাড়ি-পাতিল, চুলা), পুতুল, খেলনা ফোন, ডাক্তার সেট বা ছোট ছোট আসবাব থাকে।
​কাজ: শিশুরা এখানে বাবা-মা, ডাক্তার, বিক্রেতা বা শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করে।
​উপকরণ: মাটির ফলমূল, কাপড়ের পুতুল, খেলনা টেলিফোন, রান্নার সরঞ্জাম ইত্যাদি।
​খ. ব্লক ও নাড়াচাড়ার কর্নার (Block & Manipulation Corner)
​এটি শিশুদের শারীরিক ও যৌক্তিক চিন্তার বিকাশে সহায়তা করে। এখানে বিভিন্ন আকৃতির কাঠের বা প্লাস্টিকের ব্লক, পাজেল এবং পুঁতি থাকে।
​কাজ: শিশুরা ব্লক দিয়ে ঘর-বাড়ি বা সেতু বানায়, পাজেল মেলায় এবং সুতায় পুঁতি গাঁথে।
​উপকরণ: ত্রিভুজ, বর্গ ও আয়তাকার ব্লক, ৮-১৬ টুকরার পাজেল, লিসিং বোর্ড ও ডমিনো।
​গ. বই ও আঁকার কর্নার (Book & Drawing Corner)
​ভাষা ও সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য এই কর্নারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আকর্ষণীয় গল্পের বই, রং পেন্সিল ও কাগজ থাকে।
​কাজ: শিশুরা ছবি দেখে গল্প বলার চেষ্টা করে, মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি আঁকে এবং বর্ণ/সংখ্যার কার্ড নিয়ে খেলা করে।
​উপকরণ: বড় বড় ছবির গল্পের বই, ক্রেয়ন, ড্রয়িং খাতা, মুখোশ ও বর্ণকার্ড।
​ঘ. বালি ও পানির কর্নার (Sand & Water Corner)
​এটি বিজ্ঞান ও পরিবেশের প্রাথমিক ধারণা লাভের স্থান। এখানে গামলায় বালি ও পানি রাখা হয়।
​কাজ: শিশুরা বালিতে ঘর বানায়, পানিতে কোন বস্তু ভাসে আর কোনটা ডুবে তা পর্যবেক্ষণ করে এবং ফানেল দিয়ে পানি ঢেলে আয়তনের ধারণা পায়।
​উপকরণ: প্লাস্টিকের গামলা, বালি, ছাঁকনি, খেলনা নৌকা, মাছ ও পাথর।
​২. কর্নার ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব
​প্রাক-প্রাথমিক স্তরে এই কর্নারগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম:
​আনন্দদায়ক শিখন: শিশুরা বইয়ের বোঝার চেয়ে খেলার ছলে শিখতে বেশি পছন্দ করে। কর্নারগুলো শ্রেণিকক্ষকে একটি খেলার মাঠে রূপান্তর করে।
​সৃজনশীলতা বৃদ্ধি: আঁকাআঁকি বা ব্লক দিয়ে নতুন কিছু তৈরির মাধ্যমে শিশুদের কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
​সামাজিকীকরণ: দলগতভাবে কাজ করার ফলে শিশুদের মধ্যে শেয়ারিং (বিনিময়), নেতৃত্ব এবং একে অপরকে সাহায্য করার মানসিকতা তৈরি হয়।
​পেশি সঞ্চালন (Fine Motor Skills): পুঁতি গাঁথা বা ব্লক নাড়াচাড়া করার ফলে শিশুদের হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম পেশি মজবুত হয়, যা পরবর্তীতে লিখতে সাহায্য করে।
​ভয়ভীতি দূর করা: স্কুল সম্পর্কে শিশুদের মনে যে ভয় থাকে, কর্নারগুলোর রঙিন পরিবেশ তা দূর করে স্কুলে আসার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
​স্বাবলম্বিতা: নিজ ইচ্ছায় কর্নার বেছে নেওয়া এবং খেলা শেষে উপকরণ গুছিয়ে রাখার মাধ্যমে শিশুরা দায়িত্বশীল হতে শেখে।
​সারকথা: এই কর্নারগুলো শিশুদের একঘেয়েমি দূর করে তাদের মানসিক, শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করে।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট