পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ১২.০২ #
বেলুন মডেল মহাবিশ্বের প্রসারণ বোঝানোর একটি সহজ উপায়, যেখানে বেলুনের পৃষ্ঠকে ত্রিমাত্রিক মহাকাশ এবং তাতে আঁকা বিন্দুগুলোকে গ্যালাক্সি হিসেবে ধরা হয়; বেলুন ফোলালে পৃষ্ঠের সব বিন্দু একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, যা মহাবিশ্বের প্রসারণের ধারণাকে ব্যাখ্যা করে—কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র নেই এবং স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে, ফলে দূরের গ্যালাক্সিগুলো দ্রুত সরে যাচ্ছে।
বেলুন মডেল যেভাবে কাজ করে:
- মহাকাশ ও গ্যালাক্সি: বেলুনের বাইরের পৃষ্ঠকে মহাবিশ্বের স্থান (space-time) হিসেবে কল্পনা করা হয়। পৃষ্ঠের উপর আঁকা বিন্দুগুলো হলো গ্যালাক্সি।
- প্রসারণ: বেলুন ফোলালে এর পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বাড়ে এবং সব বিন্দু একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। এটি দেখায় যে মহাবিশ্বের প্রসারণ কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে হচ্ছে না, বরং স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে।
- গ্যালাক্সির গতি: বেলুনের দুটি বিন্দুর দূরত্ব যত বেশি, বেলুন ফোলালে তাদের মধ্যেকার দূরত্ব তত বেশি হারে বাড়ে। একইভাবে, মহাকাশে দূরের গ্যালাক্সিগুলো কাছের গ্যালাক্সির চেয়ে দ্রুতবেগে দূরে সরে যায়, যা হাবল-এর সূত্র (Hubble's Law) সমর্থন করে।
- মহাজাগতিক লোহিত সরণ (Cosmological Redshift): বেলুন ফুলানোর ফলে আলোকরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রসারিত হয়, যা দূরের গ্যালাক্সি থেকে আসা আলোকে লালচে (redder) দেখায়। এটিই মহাজাগতিক লোহিত সরণ।
সীমাবদ্ধতা:
- এই মডেলটি শুধুমাত্র মহাবিশ্বের প্রসারণের একটি অংশ ব্যাখ্যা করে। এটি মহাবিশ্বের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বা ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে না।
- বেলুনের প্রসারণ থেমে গেলে থেমে যায়, কিন্তু মহাবিশ্বের প্রসারণ অনবরত চলছে এবং ত্বরান্বিত হচ্ছে (accelerating)।
বেলুন মডেল মহাবিশ্বের প্রসারণকে একটি সহজ ও কার্যকর উপায়ে বোঝাতে সাহায্য করে, যদিও এটি একটি সরলীকৃত মডেল।