বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের শরীরেই হরমোনের প্রভাবে নানা শারীরিক পরিবর্তন আসে, যেমন—উচ্চতা বৃদ্ধি, পেশী গঠন, শরীরের বিভিন্ন অংশে লোম গজানো, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, ব্রণ হওয়া, এবং যৌন অঙ্গের বিকাশ; ছেলেদের ক্ষেত্রে দাড়ি-গোঁফ ও স্বপ্নদোষ(বীর্যস্খলন), মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন বৃদ্ধি ও মাসিক (পিরিয়ড) শুরু হওয়া—এগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা সাধারণত ১০-১২ বছর বয়স থেকে শুরু হয়ে কয়েক বছর ধরে চলে এবং প্রজনন ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে।
ছেলেদের শারীরিক পরিবর্তন:
শারীরিক গঠন:
উচ্চতা বাড়ে, কাঁধ চওড়া হয়, পেশী সুঠাম ও শক্তিশালী হয়।
লোম:
দাড়ি, গোঁফ, বগল ও যৌনাঙ্গের চারপাশে লোম গজানো শুরু হয়।
যৌন অঙ্গ:
লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ বড় হয়, বীর্য উৎপাদন শুরু হয় এবং স্বপ্নদোষ (ঘুমানোর সময় বীর্যপাত) হতে পারে।
কণ্ঠস্বর:
কণ্ঠস্বর ভারী ও গভীর হতে থাকে।
ত্বক:
ব্রণ (Pimples) হতে পারে, ঘাম বেশি হয়।
অন্যান্য:
Erections বা উত্থান (যা স্বাভাবিক), স্তনে সাময়িক বৃদ্ধি ও ব্যথা।
মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তন:
শারীরিক গঠন:
উচ্চতা বাড়ে, শরীরের গঠন পরিবর্তিত হয়।
স্তন:
স্তন বড় হতে শুরু করে এবং কোমলতা বা ব্যথা হতে পারে।
লোম:
বগল ও যৌনাঙ্গের আশেপাশে লোম গজানো শুরু হয়।
মাসিক:
মাসিক বা পিরিয়ড শুরু হয়, যা প্রজনন ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
ত্বক:
ব্রণ হতে পারে, ঘাম বেশি হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
হরমোনের ভূমিকা:
এই পরিবর্তনগুলো মূলত হরমোনের প্রভাবে ঘটে, যা শরীরকে প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নিয়ে যায়।
ব্যক্তিগত ভিন্নতা:
প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন গতিতে হয়, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
মানসিক পরিবর্তন:
শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনও ঘটে, যেমন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ এবং মেজাজের ঘন ঘন পরিবর্তন।
পরিচ্ছন্নতা:
এই সময়টায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি।