পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৯৬ #
বৃক্ষ ও গোখাদ্য চাষের জন্য সূর্যমুখী, নেপিয়ার ঘাস]], ভূট্টা, সিসেবানিয়া (আগাথী), এবং শস্য খেসারী-এর মতো উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফসল চাষ করা হয়, যা জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন (সাধারণত বর্ষার শুরুতে) এবং সঠিক সার ও সেচ প্রয়োগের মাধ্যমে করা যায়, এতে ভালো ফলন নিশ্চিত হয় এবং গো-খাদ্যের চাহিদা মেটে।
সাধারণ নিয়মাবলী:
- জমি প্রস্তুতি: চাষের আগে জমি ভালোভাবে লাঙল ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে, যাতে বীজ ভালোভাবে অঙ্কুরিত হতে পারে।
- বপনের সময়: বর্ষার শুরুতে বা যখন মাটি ভেজা ও আলগা থাকে তখন বীজ বপন করা ভালো, যাতে বৃষ্টির পানিতে বীজ ধুয়ে না যায়।
- সার ও সেচ: মাটির ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার, যেমন - গোবর সার, ইউরিয়া, জিংক সালফেট ও বোরন প্রয়োগ করতে হবে এবং নিয়মিত সেচের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
জনপ্রিয় কিছু বৃক্ষ ও গোখাদ্য:
- সূর্যমুখী: উচ্চ আমিষ ও ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ, যা গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী।
- নেপিয়ার ঘাস: এটি একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস, যা একবার চাষ করলে কয়েক বছর ধরে ফলন দেয় এবং দেখতে আখের মতো, যা গবাদিপশুর খাদ্য সংকট মেটাতে খুব কার্যকর।
- ভূট্টা: এটি মানুষ ও পশুর উভয়ের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে প্রোটিন ও ভিটামিন 'এ' এর পরিমাণ বেশি থাকে। এটি মিশ্র ফসল হিসেবেও চাষ করা যায়।
- সিসেবানিয়া (আগাথী): এর পাতা আমিষ সমৃদ্ধ (প্রায় ২৫%), যা ছাগলসহ অন্যান্য গবাদি পশুর খুব প্রিয়। এটি সেচের মাধ্যমে সারা বছর চাষ করা যায়।
- শস্যখেসারী ও অন্যান্য ঘাস (যেমন পারাচ, বাজরা): এগুলোও ভালো মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সংরক্ষণ পদ্ধতি:
- বর্ষাকালে উৎপন্ন অতিরিক্ত কাঁচা ঘাস ও খড় ইউরিয়া প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়, যা শুষ্ক মৌসুমে কাজে লাগে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- মাটির গুণাগুণ, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং আগাছার উপদ্রব বিবেচনা করে ফসল নির্বাচন করা উচিত।
- সঠিকভাবে চাষ করলে এক হেক্টর জমি থেকে বছরে ১০০ টন পর্যন্ত সবুজ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব।