পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৯৪ #
সামাজিক বন (Social Forestry) হলো এমন একটি বনায়ন কার্যক্রম যেখানে স্থানীয় দরিদ্র জনগণকে সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণ করা হয়, যাতে তারা কাঠ, জ্বালানি, পশুখাদ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক সুবিধা পায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করে, যা মূলত অব্যবহৃত বা প্রান্তিক জমিতে করা হয়। এর লক্ষ্য হলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করে মূল বনভূমির ওপর চাপ কমানো, যার মাধ্যমে বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সুফল বন্টনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: ভূমিহীন ও দরিদ্রদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের স্বনির্ভর হতে সাহায্য করা।
- জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা: কাঠ, জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য, আসবাবপত্র ইত্যাদির চাহিদা মেটানো।
পরিবেশের ভারসাম্য: বনভূমির ওপর চাপ কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।জনগণের অংশগ্রহণ: পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রধান কার্যক্রম:
- গ্রাম বন (Village Woodlots): গ্রামের অব্যবহৃত জমিতে বৃক্ষরোপণ।
- খামার বন (Farm Forestry): কৃষিজমিতে বা কৃষিক্ষেত্রের আশেপাশে গাছ লাগানো।
- রাস্তা ও বাঁধের পাশে বনায়ন (Strip Plantations): সড়ক, রেলপথ ও বাঁধের ধারে গাছ লাগানো।
- বনভূমি পুনরুদ্ধার (Afforestation): পতিত বা প্রান্তিক বনভূমিতে নতুন বন সৃষ্টি করা।
গুরুত্ব:
সামাজিক বনায়ন শুধুমাত্র গাছ লাগানো নয়, এটি গ্রামীণ উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।