পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৮৩ #
কবুতর পালনের জন্য প্রয়োজন একটি নিরাপদ ও খোলামেলা ঘর (লোফট) যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকবে এবং শিকারি প্রাণীর প্রবেশাধিকার থাকবে না; নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি, খাবার হিসেবে শস্যদানা ও বীচি এবং পর্যাপ্ত পরিষ্কার জল দিতে হবে; প্রজননের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সময় (বসন্ত ও শরৎ) দিতে হবে; এবং মাংস বা শখের জন্য দেশি/বিদেশি জাত নির্বাচন করে স্বল্প খরচে এটি পালন করা সম্ভব, যা আয় ও বেকারত্ব দূরীকরণেও সহায়ক।
১. বাসস্থান (কবুতরের ঘর):
- অবস্থান: উঁচু, বালুময় এবং উত্তম নিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে এমন জায়গায় ঘর তৈরি করুন, যা বাড়ির থেকে কিছুটা দূরে হলে ভালো।
- দিক: দক্ষিণমুখী ঘর হলে ভালো হয়।
- উচ্চতা: মাটি থেকে ঘর ২০-২৪ ফুট এবং খাঁচা ৮-১০ ফুট উঁচুতে হলে নিরাপদ।
বৈশিষ্ট্য: পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল ও শিকারি প্রাণী (ইঁদুর, সাপ) থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে, এজন্য ছোট প্রবেশদ্বার ও ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন। ২. খাবার ও জল:
- খাবার: শস্যদানা (যেমন - গম, ভুট্টা, চাল), ডাল, এবং বীজের মিশ্রণ দিন।
- পুষ্টি: ক্যালসিয়ামের জন্য ঝিনুক বা শামুকের গুঁড়ো এবং হজমের জন্য গ্রিট (পাথরের ছোট টুকরা) দিন।
- জল: সবসময় পরিষ্কার ও তাজা জল সরবরাহ করুন।
৩. প্রজনন ও বাচ্চা প্রতিপালন:
- বাসা: খড়, পাতা, ও ডালপালা দিয়ে কবুতর নিজেরা বাসা তৈরি করে, তবে হাঁড়ি বা বাক্স দিতে পারেন।
- ডিম: সাধারণত ১০ পর ঝরার পর ৮-১৫ দিনের মধ্যে ডিম পাড়ে।
- সময়: বসন্ত ও শরৎকালে সর্বোচ্চ প্রজনন হয়।
- পরিচর্যা: ডিম ও বাচ্চা অবস্থায় বিশেষ যত্ন নিন; ৪ সপ্তাহ বয়স হলে বাচ্চা বিক্রির উপযুক্ত হয়।
৪. জাত নির্বাচন (বাংলাদেশে):
- মাংসের জন্য: হোয়াইট কিং, টেক্সেনা, সিলভার কিং, কাউরা, হোমার।
- শখের জন্য: সিরাজী, ময়ুরপঙ্খী, লাহোরি, ফ্যানটেইল, গিরিবাজ (ডিববাজি খায়)।
৫. সুবিধা ও সম্ভাবনা:
- কম খরচ: অল্প পুঁজি ও সীমিত জায়গায় পালন করা যায়, যা হাঁস-মুরগির চেয়ে কম ব্যয়বহুল।
- আয়: মাংস ও পালক বিক্রি করে আয় করা সম্ভব, বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক।
- সহজ: পারিবারিক পরিবেশে বা অন্য কাজের পাশাপাশিও এটি পালন করা যায়।
৬. স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা:
- পরিষ্কার: শেড ও খোপ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি, রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
- রোগ প্রতিরোধ: রাণীক্ষেত, মাইকোপ্লাজমা, সালমোনেলার মতো রোগ থেকে বাঁচাতে সতর্ক থাকুন।