পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৭৪ #
মাছ চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতির মূল ধাপগুলো হলো পুকুর শুকানো, আগাছা ও অবাঞ্ছিত মাছ অপসারণ, পাড় মেরামত, চুন ও সার প্রয়োগ এবং পানি প্রবেশ করানো; যেখানে প্রথমে পুকুর শুকিয়ে তলা ফাটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়, এরপর চুন (প্রতি শতাংশে ১ কেজি) ও সার (গোবর/হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা) দিয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করা হয় এবং শেষে পানির গভীরতা ১.৫ থেকে ২.০ মিটার রেখে পোনা ছাড়া হয়, যা মাছের ভালো ফলনের জন্য জরুরি।
পুকুর প্রস্তুতির ধাপসমূহ:
- পুকুর শুকানো ও পরিষ্কার করা:
- পুকুরের সমস্ত পানি নিষ্কাশন করে তলার মাটি শুকিয়ে ফাটল ধরানো উচিত, যা রোগজীবাণু ও অবাঞ্ছিত মাছ মারতে সাহায্য করে।
- কচুরিপানা, শেওলা ও অন্যান্য জলজ আগাছা শিকড়সহ সম্পূর্ণ তুলে ফেলতে হবে।
অবাঞ্ছিত মাছ অপসারণ (যদি শুকানো সম্ভব না হয়):- যদি পুকুর শুকানো না যায়, তবে চুন (প্রতি শতাংশে ১ কেজি) বা Bleaching Powder (প্রতি শতাংশে ১ কেজি/১ ফুট পানির জন্য) প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করা যায়।
পাড় মেরামত ও গভীরতা:- পুকুরের পাড় মজবুত ও উঁচু করতে হবে এবং গভীরতা ৫-৬ ফুট বা ১.৫-২.০ মিটার রাখা ভালো, যাতে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পৌঁছায়।
চুন প্রয়োগ:- প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। পানি থাকলে চুন পানিতে গুলে সারা পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এটি মাটির pH ঠিক রাখতে এবং রোগজীবাণু মারতে সাহায্য করে।
সার প্রয়োগ (উর্বরতা বৃদ্ধি):- চুন দেওয়ার কয়েকদিন পর সার প্রয়োগ করতে হয়। প্রতি শতাংশে ৫-৭ কেজি গোবর বা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা প্রয়োগ করা যায়, যা প্রাকৃতিক খাদ্য (ফাইটোoplankton) উৎপাদনে সাহায্য করে।
পানি প্রবেশ করানো ও পরীক্ষামূলক সময়:- সার দেওয়ার পর পুকুরে পরিষ্কার পানি প্রবেশ করাতে হবে। পানি সবুজ বর্ণ ধারণ করলে (যা সূচালো হাত প্রায় দেখা না গেলে বোঝা যায়) পোনা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত। পোনা ছাড়ার আগে ৫-৭ দিন অপেক্ষা করা ভালো।
এই ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে মাছ চাষে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং আর্থসামাজিক উন্নতি ঘটে।