পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৬৫ #
মরিচের প্রধান রোগগুলো হলো পাতা কুঁচকে যাওয়া (ভাইরাস), ঢলে পড়া (ফিউজেরিয়াম উইল্ট), আগা মরা, কান্ড পঁচা, ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতার দাগ এবং অ্যানথ্রাকনোজ বা ফল পঁচা রোগ, যা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় এবং এদের প্রতিকারে সুস্থ বীজ ব্যবহার, আক্রান্ত গাছ উপড়ে ফেলা, সুষম সার প্রয়োগ এবং
প্রতিরোধক ছত্রাকনাশক (যেমন কার্বেন্ডাজিম) স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- কারণ: ভাইরাসজনিত রোগ, যা জাপ পোকা ও সাদা মাছি দ্বারা ছড়ায়।
- লক্ষণ: পাতা হলুদ-সবুজ মোজাইক হয়ে কুঁচকে যায়।
- প্রতিকার: বাহক পোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রিড স্প্রে করা এবং ভাইরাসমুক্ত বীজ ব্যবহার করা।
- কারণ: ফিউজেরিয়াম নামক ছত্রাক।
- লক্ষণ: নিচের পাতা ঝুলে পড়ে এবং দ্রুত গাছ ঢলে পড়ে।
- প্রতিকার: ফিউজেরিয়াম প্রতিরোধী জাত চাষ করা এবং ফসল আবর্তন পদ্ধতি অনুসরণ করা।
- কারণ: ছত্রাক।
- লক্ষণ: গাছের নতুন ডগা, ডাল ও ফুলের কুঁড়ি প্রথমে আক্রান্ত হয় এবং মরে যায়।
- প্রতিকার: আক্রান্ত অংশ ছেঁটে ফেলা এবং ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা।
- কারণ: ছত্রাক।
- লক্ষণ: মাটির কাছাকাছি কান্ডে কালো দাগ পড়ে এবং পরে পচে যায়।
- প্রতিকার: কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করা।
- কারণ: ব্যাকটেরিয়া।
- লক্ষণ: পাতায় হলুদ বৃত্তসহ কালো, জলসিক্ত দাগ পড়ে এবং পাতা বিকৃত হয়।
- প্রতিকার: রোগমুক্ত চারা ব্যবহার, ব্লিচিং পাউডার দিয়ে বীজ শোধন এবং ব্যাকটেরিয়ানাশক ব্যবহার।
- কারণ: ছত্রাক।
- লক্ষণ: ফল পচে যায় এবং তাতে কালো দাগ পড়ে।
- প্রতিকার: প্রতিরোধক জাত চাষ এবং অ্যানথ্রাকনোজ প্রতিরোধী ছত্রাকনাশক স্প্রে করা।
সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
- সুস্থ ও রোগমুক্ত বীজ/চারা ব্যবহার করুন।
- ফসল আবর্তন পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
- মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার (বিশেষত বোরন) ব্যবহার করুন।
- ক্ষেত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং আগাছা দমন করুন।