পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৬৪ #
মরিচ উৎপাদন একটি লাভজনক কৃষি কাজ, যার জন্য সঠিক জমি প্রস্তুতি, উন্নত জাত নির্বাচন, সার প্রয়োগ এবং পরিচর্যা জরুরি; সাধারণত ভালো ফলনের জন্য জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে জমি তৈরি করতে হয়, উপযুক্ত দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়, এবং ফুল আসার পর ১৫-২০ দিনে কাঁচা মরিচ সংগ্রহ করা যায়, যা বাংলাদেশে একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে ব্যাপক চাষ হয়, বিশেষত চরাঞ্চলে।
- জমির আগাছা পরিষ্কার করে ৪-৫ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি সমান করতে হবে।
- শেষ চাষের আগে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার (কম্পোস্ট) ও রাসায়নিক সার (টিএসপি, এমওপি) মিশিয়ে দিতে হবে।
- উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জাত নির্বাচন করা উচিত, যেমন বারি মরিচ-২, বারি মরিচ-৩ ইত্যাদি।
৩. চারা রোপণ ও পরিচর্যা:
- চারা রোপণের সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে (প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লক্ষ চারা)।
- সেচ দেওয়ার আগে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- গাছে প্রচুর ফুল ও ফল আসার জন্য সঠিক পরিচর্যা এবং সার প্রয়োগ প্রয়োজন।
- ফুল আসার ১৫-২০ দিনের মধ্যে কাঁচা মরিচ তোলা যায়।
- লাল মরিচ সংরক্ষণ করতে হলে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়।
৫. ফলন:
- সঠিক পরিচর্যা করলে হেক্টর প্রতি ১০-১১ টন কাঁচা মরিচ এবং ১.৫-২.০ টন শুকনো মরিচ উৎপাদন সম্ভব।
- সাদা মরিচ উৎপাদনের জন্য, পরিপক্ক ফল ৫-৭ দিন ব্যাগে রেখে নরম করে, তারপর বাইরের আবরণ তুলে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়।
গুরুত্ব:
- মরিচ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মশলা ও অর্থকরী ফসল।
- এটি ভিটামিন এ, বি, সি-এর উৎস এবং আচারসহ বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।