পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ৩৬ #
গৃহপালিত পশু-পাখির জন্য বিশুদ্ধ খাবার ও পানি অপরিহার্য; এদের খাদ্য তালিকায় শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও ফ্যাট-এর সুষম মিশ্রণ প্রয়োজন (যেমন - শস্য, খৈল, ভুসি, শাকসবজি), এবং পানি তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিপাক ক্রিয়া ও বর্জ্য অপসারণে মূল ভূমিকা পালন করে, তাই সবসময় পরিষ্কার, টাটকা ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং খাদ্যের পাশাপাশি পানির উৎসের পরিচ্ছন্নতাও জরুরি।
খাবার ও পানির উৎস ও গুরুত্ব:
- খাবার:
- শস্য: ধান, চাল, ভুট্টা, গম ইত্যাদি প্রধান খাদ্য উপাদান।
- খৈল ও ভুসি: সরিষা বা তিলের খৈল, গমের ভুসি পুষ্টির উৎস।
- শাক-সবজি: পালং শাক, বাঁধাকপি, গাজর ইত্যাদি ভিটামিনের জন্য জরুরি।
- প্রাণিজ প্রোটিন: ফিশমিল বা ডিমের খোসা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন যোগায়।
- খনিজ ও ভিটামিন: সুষম খাদ্যের জন্য এগুলি অত্যাবশ্যক।
- পানি:
- বিপাক ক্রিয়া: সকল রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও বিপাক ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
- বর্জ্য অপসারণ: শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।
- উৎসের পরিচ্ছন্নতা: পুকুর, নদী বা পাত্রের পানি সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে, ময়লা বা জীবাণুযুক্ত পানি রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
যত্ন ও সতর্কতা:
- সুষম খাদ্য: খাদ্যে যেন প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে (সুষম রেশন)।
- পরিষ্কার পানির পাত্র: খাবারের মতো পানির পাত্রও প্রতিদিন পরিষ্কার করা উচিত, যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- সঠিক আবাসন: পশু-পাখির বাসস্থান যেমন পরিষ্কার রাখতে হবে, তেমনি তাদের খাবার ও পানির জায়গাটিও পরিষ্কার রাখা জরুরি।
এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করলে গৃহপালিত পশু-পাখি সুস্থ ও সবল থাকবে এবং ভালো উৎপাদন দেবে।