Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের নিয়ে ড্রাগনের বাগান পরিদর্শন


শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সম্প্রতি একটি শিক্ষাসফরের আয়োজন করি। এই সফরের অংশ হিসেবে আমরা পরিদর্শন করি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বাগইল গ্রামে অবস্থিত একটি ড্রাগন ফলের বাগান। বাগানটির মালিক একজন প্রান্তিক কৃষক ও সফল উদ্যোক্তা আনিছুর রহমান।

বাগানের পরিচিতি

আনিছুর রহমান প্রায় ৩ বিঘা জমির ওপর ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। পরিকল্পিতভাবে সারি সারি কংক্রিটের খুঁটির ওপর ড্রাগন গাছ লাগানো হয়েছে। পুরো বাগানটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা ও পাকা ড্রাগন ফল, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

কৃষকের বক্তব্য

বাগান পরিদর্শনের সময় আনিছুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন—

“ড্রাগন ফল চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। শুরুতে কিছুটা পরিশ্রম ও খরচ থাকলেও একবার গাছ বড় হলে দীর্ঘদিন ফল দেয়। নিয়মিত পরিচর্যা করলে অল্প জমিতেই ভালো আয় করা সম্ভব।”

তিনি আরও জানান—

ড্রাগন গাছ ১৫–২০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়

বছরে একাধিকবার ফল সংগ্রহ করা যায়

বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা

এই বাগান পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা—

আধুনিক ফল চাষ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে

কৃষিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সম্ভাবনা বুঝতে পারে

উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়

অনেক শিক্ষার্থী ড্রাগন চাষের পদ্ধতি, খরচ, লাভ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করে, যার উত্তর কৃষক অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দেন।

কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুত্ব

ড্রাগন ফল চাষ—

প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছে

নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে

দেশের ফল উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনছে

উপসংহার

বাগইল গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আনিছুর রহমান প্রমাণ করেছেন—সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও উদ্যোগ থাকলে কৃষিও হতে পারে লাভজনক ব্যবসা। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই ড্রাগন বাগান পরিদর্শন ছিল শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক একটি অভিজ্ঞতা। বাস্তব জীবনের এই ধরনের শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল ও উদ্যোক্তামুখী করে তুলবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট