পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৭.১২ ।।
শব্দ তরঙ্গের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো প্রবলতা (Amplitude), কম্পাঙ্ক (Frequency) এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength)। এছাড়াও এটি একটি যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, যার বেগ মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে এবং এটি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও অপবর্তনের মতো ধর্ম প্রদর্শন করে।
শব্দ তরঙ্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- প্রবলতা (Amplitude): এটি শব্দের তীব্রতা বা উচ্চতা নির্ধারণ করে। বেশি প্রবলতার শব্দ বেশি জোরালো হয়।
- কম্পাঙ্ক (Frequency): এটি শব্দের তীক্ষ্ণতা (Pitch) নির্ধারণ করে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে যত বেশি কম্পন হয়, শব্দ তত তীক্ষ্ণ হয়।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength): এটি একটি পূর্ণাঙ্গ শব্দ তরঙ্গ অতিক্রম করতে প্রয়োজনীয় দূরত্ব। কম্পাঙ্কের সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে; কম্পাঙ্ক বাড়লে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে।
- বেগ (Velocity): শব্দের বেগ নির্ভর করে এটি যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার প্রকৃতির ওপর, যেমন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা। কঠিন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি এবং গ্যাসের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়।
প্রকৃতি: শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, অর্থাৎ এর সঞ্চালনের জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয় (যেমন বাতাস, জল বা কঠিন বস্তু)।প্রকার: এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, যার অর্থ হলো মাধ্যমের কণাগুলো তরঙ্গের সঞ্চালনের দিকের সমান্তরালে কম্পিত হয়। অন্যান্য বৈশিষ্ট্য:
- প্রতিফলন: শব্দ তরঙ্গ কোনো পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত হতে পারে, যেমন প্রতিধ্বনি।
- প্রতিসরণ: যখন শব্দ তরঙ্গ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি বেঁকে যায়, যা প্রতিসরণ নামে পরিচিত।
- অপবর্তন: শব্দ তরঙ্গ কোনো প্রতিবন্ধকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বেঁকে যায়, যা অপবর্তন নামে পরিচিত।
- শক্তি সঞ্চালন: শব্দ তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে।
- সৃষ্টিকরণ: যেকোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।