Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিউক্লিয়ার শক্তি

পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৪.০৫ ।।    নিউক্লিয়ার শক্তি (পারমাণবিক শক্তি)
হলো পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে উদ্ভূত এক বিপুল পরিমাণ শক্তি, যা নিউক্লিয়ার ফিশন (বিভাজন) বা ফিউশন (সংযোজন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়; এই প্রক্রিয়ায় ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (আইনস্টাইনের সূত্র অনুযায়ী) এবং এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সামরিক প্রয়োগ (পারমাণবিক বোমা) ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়, তবে এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 
নিউক্লিয়ার শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া 
  • নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission): ভারী পরমাণুর (যেমন ইউরেনিয়াম) নিউক্লিয়াসকে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে ভাঙা হয়, ফলে নতুন হালকা নিউক্লিয়াস ও প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় (পারমাণবিক চুল্লিতে)।
  • নিউক্লিয়ার ফিউশন (Nuclear Fusion): দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস গঠন করে এবং বিপুল শক্তি নির্গত হয় (সূর্যের শক্তির উৎস)। 
ব্যবহার ও প্রয়োগ 
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন: পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে স্টিম টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।
  • সামরিক: পারমাণবিক অস্ত্র (বোমা) তৈরিতে এই শক্তি ব্যবহৃত হয়, যা অত্যন্ত বিধ্বংসী।
  • চিকিৎসা ও গবেষণা: তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায়, এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। 
সুবিধা ও অসুবিধা 
  • সুবিধা:
    • অল্প জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) থেকে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
    • বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ কম হয়, যা পরিবেশবান্ধব।
  • অসুবিধা:
    • পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
    • তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়, যা নিরাপদ ব্যবস্থাপনা কঠিন।
    • দুর্ঘটনার ঝুঁকি (যেমন চেরনোবিল, ফুকুশিমা) থাকে, যা মারাত্মক হতে পারে। 
মূলনীতি 
  • আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র
    ΔE=Δmc2cap delta cap E equals delta m c squared
    Δ𝐸=Δ𝑚𝑐2
    অনুযায়ী, ভর (m) শক্তিতে (E) রূপান্তরিত হয়, যেখানে c আলোর গতিবেগ।
  • সবল নিউক্লিয় বল-এর কারণে নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন একত্রে থাকে; এই বল ভাঙা বা জোড়া লাগানোর সময় শক্তি মুক্ত হয়। 
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট