পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ১.০৮ ।
ভর মাপার জন্য বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র বা ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। যন্ত্রের ধরন নির্ভর করে ঠিক কতটুকু ভর মাপা হবে এবং কতটা নির্ভুলভাবে মাপা হবে তার ওপর।
ভর মাপার কিছু প্রধান যন্ত্র হলো:
১. সাধারণ তুলাদণ্ড বা দাঁড়িপাল্লা (Beam Balance/Common Balance)
এটি সবচেয়ে পুরোনো এবং প্রচলিত ভর মাপার যন্ত্র।
- গঠন: এতে একটি অনুভূমিক দণ্ড থাকে যার দুই প্রান্তে দুটি সমান ওজনের পাল্লা ঝোলানো থাকে।
- নীতি: এটি লিভারের মূলনীতি এবং অভিকর্ষ বলের সমতার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এক পাল্লায় পরিমাপযোগ্য বস্তু এবং অন্য পাল্লায় প্রমাণ বাটখারা (Standard weights) বসিয়ে ভর মাপা হয়।
- ব্যবহার: একসময় এটি বাজার, গবেষণাগার এবং স্বর্ণের দোকানে বহুল ব্যবহৃত ছিল।
২. স্প্রিং নিক্তি বা স্প্রিং স্কেল (Spring Scale)
এটি ভার বা ওজন পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। যদিও এটি ওজন মাপে (যা ভরের সাথে অভিকর্ষ বল জড়িত), তবে এটিকে ভরের একক (যেমন কিলোগ্রাম) দিয়ে ক্যালিব্রেট করা থাকে।
- নীতি: হুকের সূত্র মেনে কাজ করে—অর্থাৎ, স্প্রিং-এর প্রসারণ তার উপর প্রযুক্ত বলের (ওজন) সমানুপাতিক।
- ব্যবহার: মাছের বাজারে, শিল্প কারখানায় ভারী জিনিস মাপতে এবং কখনো কখনো বাথরুমের ওজন মাপার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩. ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক নিক্তি (Digital/Electronic Scale)
আধুনিক যুগে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যন্ত্র।
- নীতি: এতে 'লোড সেল' (Load Cell) নামক সেন্সর থাকে, যা বস্তুর ওজনকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করে। সেই সিগনাল ডিজিটাল ডিসপ্লেতে সংখ্যায় প্রকাশ পায়।
- ব্যবহার: রান্নাঘর, গবেষণাগার, হাসপাতাল, দোকানপাট, শপিং মল, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সবখানেই এর ব্যবহার সর্বাধিক। এগুলো খুব নির্ভুল হয়।
৪. ল্যাবরেটরি ব্যালেন্স (Laboratory Balances)
গবেষণাগারে রাসায়নিক পদার্থের সূক্ষ্ম ভর মাপার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়।
- প্রকার:
- অ্যানালিটিক্যাল ব্যালেন্স (Analytical Balance): অত্যন্ত সূক্ষ্ম, মিলিগ্রাম বা মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত নির্ভুল ভর মাপতে পারে। এটি কাঁচের খোপের মধ্যে রাখা হয় যেন বাতাসের সামান্য প্রবাহও পরিমাপে বিঘ্ন না ঘটায়।
- টপ-প্যান ব্যালেন্স (Top-pan Balance): এটি অ্যানালিটিক্যালের চেয়ে কম সূক্ষ্ম, তবে সাধারণ ল্যাব কাজের জন্য যথেষ্ট নির্ভুল।
সংক্ষেপে, ভর মাপার জন্য তুলাদণ্ড, স্প্রিং স্কেল এবং ডিজিটাল স্কেল প্রধান যন্ত্র হিসেবে প্রচলিত।