Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

জসীমউদ্দীন : কবি ও জনসেবী সাহিত্যিক

জসীমউদ্দীন : কবি ও জনসেবী সাহিত্যিক

জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কবি ও গুণী সাহিত্যিক, যিনি তার কাব্যে পল্লির মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও মানবিক অনুভূতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তাঁর রচনায় পল্লির মাটি ও মানুষের সহজ-সরল সৌন্দর্য এক গভীর প্রভাব ফেলে।

জসীমউদ্দীনের জন্ম ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে। ১৯৩১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পাঁচ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারের তথ্য ও প্রচার বিভাগে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন।

ছাত্রজীবনেই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁর লেখা ‘কবর’ কবিতাটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তাঁর কবিতায় পল্লির মানুষের জীবন ও প্রকৃতির রূপের সহজ প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়, যেখানে কবির হৃদয় মিশে আছে পল্লির মাটির সঙ্গে।

প্রধান সাহিত্যকর্ম:

  • কাহিনিকাব্য:

    • ১। নক্সী কাঁথার মাঠ

    • ২। সোজন বাদিয়ার ঘাট

  • কাব্যগ্রন্থ:

    • ১। রাখালী

    • ২। বালুচর

    • ৩। মাটির কান্না

  • নাটক: বেদের মেয়ে

  • উপন্যাস: বোবা কাহিনী

  • গানের সংকলন: রঙিলা নায়ের মাঝি

  • শিশুতোষ গ্রন্থ:

    • ১। হাসু

    • ২। এক পয়সার বাঁশী

    • ৩। ডালিমকুমার

জীবন পরিচিতি:

  • জন্ম: ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ, তাম্বুলখানা গ্রাম, ফরিদপুর জেলা

  • মৃত্যু: ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ, ঢাকা

সম্মাননা:

  • বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি

  • বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক

জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যের এক অমলিন প্রতিভা, যিনি কাব্যে পল্লির জীবন ও প্রকৃতিকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যা পাঠককে মানবিক ও প্রকৃতির গভীরতার এক নতুন উপলব্ধি প্রদান করে। তাঁর সাহিত্য কেবল শিল্প নয়, বরং মানুষের জীবন ও সমাজের প্রতি এক অন্তর্দৃষ্টি।

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট