সিনিয়র শিক্ষক
১৮ আগস্ট, ২০২৫ ১০:২৬ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ ভূগোল
অধ্যায়ঃ Chapter 14
ভূমিকম্পের কারণ ও করণীয়:
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পৃথিবীর অভ্যন্তরে শিলাস্তরের. হঠাৎ করে স্থানচ্যুত হওয়ার ফলে সৃষ্ট কম্পন থেকে হয়ে থাকে। এই কম্পন পৃথিবীর পৃষ্ঠকে আন্দোলিত করে এবং এর ফলে ভূমিকে কাঁপিয়ে তোলে। ভূমিকম্পের মূল কারণ হল পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলির নড়াচড়া। এছাড়াও, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপও ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে, আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া এবং সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
ভূমিকম্পের কারণ:
টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া:
পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি প্লেটে বিভক্ত, যা সর্বদা নড়াচড়া করছে। এই প্লেটগুলো একে অপরের সাথে ঘষা লাগলে বা ধাক্কা খেলে অথবা একটি প্লেট অন্যটির নিচে প্রবেশ করলে ভূগর্ভে প্রচুর শক্তির সৃষ্টি হয়। যখন এই শক্তি হঠাৎ করে মুক্তি পায়, তখন ভূমিকম্প হয়।
ভূগর্ভস্থ গ্যাস নিঃসরণ:
ভূগর্ভের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার সময় সেখানকার স্থান ফাঁকা হয়ে যায়। তখন উপরের মাটি সেই ফাঁকা স্থানে বসে গিয়ে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
ভূগর্ভস্থ কার্যকলাপ:
যেমন- ভূমিধস, খনি থেকে মাটি উত্তোলন বা বিশাল আকারের জলরাশি জমা হওয়ার ফলেও ভূমিকম্প হতে পারে।
মানুষের কার্যাবলী:
পারমাণবিক বিস্ফোরণ, বড় বড় বাঁধ তৈরি করা বা ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদ উত্তোলনের মতো মানুষের কার্যকলাপও ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।
ভূমিকম্পের প্রতিকার:
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস ও প্রস্তুতি:
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব না হলেও, নিয়মিত ভূমিকম্প বিষয়ক মহড়া এবং সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেতে পারে।
ভূমিকম্প-সহনীয় অবকাঠামো:
ভবন নির্মাণের সময় ভূমিকম্প-সহনীয় নকশা ও উপকরণ ব্যবহার করা উচিত। এতে ভূমিকম্পের সময় ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি কমবে।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়:
ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে।
দ্রুত কাছাকাছি থাকা মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
দরজার ফ্রেমের কাছে দাঁড়ানো নিরাপদ।
বহুতল ভবনে থাকলে বারান্দা বা জানালা থেকে দূরে থাকতে হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।
খোলা জায়গায় থাকলে বিদ্যুতের তার ও দালান থেকে দূরে থাকতে হবে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয়:
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
উদ্ধারকাজে সহায়তা করা এবং মনোবল ধরে রাখতে হবে।
গুজব বা আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
উদ্ধারকাজে সহায়তা করা ও মনোবল ধরে রাখতে হবে।