Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

২৬ অক্টোবর, ২০২৩ ০৩:৫৫ অপরাহ্ণ

মশা নিধনের পরিবেশ বান্ধব কার্যকর পদ্ধতি

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ এলাকার মতো পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলাধীন মুগারঝোর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়ও এডিস মশা বৃদ্ধির প্রভাবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষার্থী এবং তার পরিবারের সদস্যরাও আক্রন্ত হচ্ছে। ফেলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে কমছে।

প্রবল আগ্রহ নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। এলাকার এই সংকটকালে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু করা দরকার। বিদ্যালয় ও শ্রেণী কক্ষ নিরাপদ রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটা সৃজনশীল উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

সিনিয়র শিক্ষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা না পাওয়ায় বিজ্ঞান শিক্ষার অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শুরু করলাম প্রাকৃতিক ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম ও ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ক কর্মসূচি। অক্টোবর মাস জুড়ে চলা এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিয়ে মিতু, মাঈশা, মার্জিয়া, হাবিবা ও দিশা প্রাকৃতিক ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে নিজস্ব পদ্ধতিতে এডিস মশা নিধনের বিভিন্ন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সামনে পরীক্ষামূলকভাবে তুলে ধরেন। 

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণি কক্ষ, অফিস কক্ষ, ওয়াশরুম ও স্টোর রুমে নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরিকৃত স্প্রে, অভিনব পদ্ধতির মশার কয়েল ব্যবহার করে বিদ্যালয়কে মশা মুক্ত রাখার চেষ্টা করে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমিও চেষ্টা করলাম। পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম সাধারণ মশার কয়েলের চেয়ে আমার উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি তুলনামূলক বেশ কার্যকর এবং পরিবেশ বান্ধব। 

আমার উদ্ভাবিত মশা নিধন পদ্ধতি 

ব্যবহারকৃত উপাদান :

১. শুকনো নারকেল এর ছোলা থেকে সংগ্রহকৃত আঁশ অথবা কাঠের গুড়ি। 

২. নিমপাতা ( গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করার দুই থেকে তিন দিন পরে ব্যবহার করা উত্তম)। 

৩. কর্পূরের গুড়ো। 

উল্লেখ্য, নিমপাতার পরিবর্তে তুলসীপাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। 

কার্যপদ্ধতি:

প্রথমে শুকনো নারকেলর ছোলার আঁশ অথবা কাঠের গুড়ির উপর নিমপাতা ছড়িয়ে দিতে হবে। অতঃপর কর্পূরের গুড়ো এর উপর ছিটিয়ে দিতে হবে। 

এরপর দিয়াশলাই এর মাধ্যমে নারকেলের ছোলায় আগুন জ্বালিয়ে দিতে হবে। 

পর্যবেক্ষণ:

নিমপাতা ও কর্পূরের গুড়োর মিলিত সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

সতর্কতা:

১. আগুন জ্বালানোর সময় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হবে।

২. নিভু নিভু অবস্থায় আগুন জ্বালিয়ে  রাখতে হবে। 

৩. শিশুদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। 

৪. ঘরের আসবাবপত্র থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। 

সধারণ মশার কয়েল ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:


১.গবেষণায় কয়েলের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও) নির্ধারিত সর্বোচ্চ দশমিক শূন্য ৩ মাত্রার (এই মাত্রা মশা তাড়াতে কার্যকর, কিন্তু মরবে না) অধিক সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান (অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট) পাওয়া গেছে।

২. এসব কয়েল ব্যবহারের ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। 

৩. শ্বাসনালিতে প্রদাহসহ বিকলাঙ্গতার মতো ভয়াবহ রোগ হতে পারে। 

৪. এমনকি গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে।

৫. লিভার-কিডনি বিকল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। 

৫. ত্বকে চুলকানি, অ্যালার্জিসহ নানা চর্মরোগ হতে পারে।

৬. অধিকাংশ মশার কয়েল নিম্নমানের এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই। 

মন্তব্য করুন