Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

২৩ অক্টোবর, ২০২৩ ০৭:২২ পূর্বাহ্ণ

নতুন শিক্ষা কারিকুলাম -২০২১


১। পরীক্ষা সংক্রান্তঃ  অনেকের  অভিযোগ এই কারিকুলামে নাকি পরীক্ষা নেই। বিষয়টি একদম ঠিক নয়। বরং নতুন কারিকুলামে প্রতিদিন, প্রতি ক্লাসেই পরীক্ষা বা মূল্যায়ন করার স্পস্ট নির্দেশনা রয়েছে।  শুধু তাই নয় প্রতিদিনের মূল্যায়ন ফলাফল সংরক্ষন করতে হবে। বিষয় ভিত্তিক দক্ষতার পরীক্ষার পাশাপাশি আচরণিক মূল্যায়ন করতে হয়। একজন শিক্ষার্থী শ্রেনি কক্ষে শিখনকালীন সময়ে কি করছে, কি শিখছে,কি ভাবছে সমস্ত কিছুর মূল্যায়ন হবে। মূল্যায়নের পাশাপাশি শিখনে ভুল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে পরবর্তীতে ভাল করার নির্দেশনা দিবেন শিক্ষক। 

আবার পূর্বের ন্যায় সারা বছর ক্লাসে যা শিখে তার আলোকে দুই বার সামস্টিক মূল্যায়ন করা হবে। মনেরাখতে হবে পরীক্ষার আর এক নাম কিন্তু মূল্যায়ন। 


২।  বাহ্যিক ধারনাঃ

অনেকে ভাবছেন বর্তমান কারিকুলামে শুধু রান্না বান্না,খেলাধুলা, বিভিন্ন কিছু তৈরী করা এগুলিই শিখানো হয়। বিষয়টি মোটেই সেরকম নয়। বিষয় ভিত্তিক অনেক কিছু শিখতে হবে। যেমন ইংরেজিতে, গ্রামার,ফ্যামিলির দৈনন্দিন রুটিন,নিজের স্কুলের উপড় প্রতিবেদন লিখা,সহপাঠী, অভিভাবকদের সহ বিভিন্ন জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে সেটার উপড় প্রতিবেদন লিখা,মৌখিকভাবে উপস্থাপন করা। সব ধরনের গ্রামার বিস্তারিত  এখানে শিখতে হবে। তবে সেগুলি Contexual এবং practical. তবে এক্ষেত্রে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কিছু টা অতি বাড়াবাড়ি করেছে তা কারিকুলাম বাস্তবায়নে মোটেই কাম্য নয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে দেখা দরকার। 


৩। পড়া-লেখার প্রতি অনীহাঃ

অনেকে বলছেন এখন শিক্ষার্থীরা বাসায় পড়ছে না।

না পড়ার সম্মানিত অভিভাবকদের আরো গভীর ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। কারণ নতুন কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের আরো বেশি পড়তে হবে। এখন শুধু নিজে শিখার জন্য নয় বরং অন্যদের শিখানোর জন্য পড়তে হবে,সেক্ষেত্রে অনেক বেশি না জানলে অন্যকে শিখানো যাবে না। 


৪। মূল্যায়ন সংক্রান্তঃ 

অনেকে বলেন ত্রিভুজ,বৃত্ত,চতুর্ভুজ এসব কি। এগুলি প্রতিক মাত্র যা শিক্ষার্থীদের পারফর্মেন্স এর উপড় নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে। IELTS এর পরীক্ষায় কিন্তু পাশ/ ফেল বলে কিছু নেই। বিভিন্ন নাম যেমন,Expert, Very goid user, Competence user,Modest User, Limited User,Extremely Limited User, Non User, Did not attempt এই ধরনের লিখা থাকে।  পাশ/ ফেল কিছু উল্লেখ থাকে না।

তবে বিষয়টি সিম্বোলের পরিবর্তে নম্বরের বিষয় টি বিবেচনা করা যেতে পারে। 


৫।শিক্ষকগনের সীমাবদ্ধতাঃ

 অনেক অভিভাবক বলেন শিক্ষকগন যথার্থভাবে মূল্যায়ন করছেন না। এটা ঠিক।সেক্ষেত্রে যথার্থভাবে যাতে মূল্যায়ন করা হয়, প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে যাবেন, সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন, অভিভাবক সমাবেশে  উপস্থিত থেকে আলোচনা করবেন। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রচুর পরিমাণ প্রশিক্ষণ দিতে হবে।  প্রশাসনিক তদারকি বাড়াতে হবে।


৫। শ্রেণি কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়াঃ

সুনাগরিক ক্লাব,বন সংরক্ষন ক্লাব,বিজ্ঞান মেলা,বানিজ্য মেলা,পরিবেশ ক্লাব,ল্যাংগুয়েজ ক্লাব,গনিত ক্লাব এসব আয়োজন করতে যেয়ে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান শিখবে, বাস্তবিক দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। এ কাজ গুলো করার জন্য বাইরে শিক্ষার্থীদের  বের হওয়া আবশ্যক। এটা ভালো দিক যে - শিক্ষার্থীরা ছাত্র জীবন থেকে বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পারবে। 


৬। ভবিষ্যৎ  পেশা সংক্রান্তঃ

অনেকে বলছেন শিক্ষার্থীরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক কিভাবে হবেন। বর্তমান কারিকুলামে যথার্থভাবে পড়লে আগের চেয়ে অনেক দক্ষ,মানবিক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বিজ্ঞানী হবেন শিক্ষার্থীরা। আগে শুধু মুখস্ত বিদ্যায় অনেক কিছু করা যেতো যা বাস্তব জীবনে কোন কাজে আসতো না। এখন শুধু মুখস্ত নয় আত্বস্ত করে প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করবে।

( চলমান পাতা---৭,৮,৯,----------)

মন্তব্য করুন