সহকারী শিক্ষক
২২ অক্টোবর, ২০২৩ ০৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিশ্বের ৫৬টি দেশের কমবেশি দু'হাজার স্যাটেলাইট রয়েছে মহাকাশে। এসব স্যাটেলাইট আবহাওয়া, পর্যবেক্ষণ, ন্যাভিগেশন, গোয়েন্দা কাজে ব্যাবহার হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বা বিএস-ওয়ান এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রযুক্তির অভিজাত দেশের ক্লাবে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। বিএস-ওয়ান হলো যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।
তবে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই স্যাটেলাইট কতখানি উপকারে আসবে তা নিয়েই আলোচনা চারদিকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার হলে এটা অনেক লাভজনক পর্যায়ে আনাও সম্ভব। দেশের দুর্গম এলাকায় যেখানে অপটিক কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌছায়নি, সেখানে বিএস-ওয়ানের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
সম্প্রচারে থাকা দু'ডজনেরও বেশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে খরচ হচ্ছে প্রতি মাসে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজস্ব স্যাটেলাইট হলে এ খাতে খরচ কমবে।
বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের পুরোটা তো বটেই সার্কভুক্ত দেশ ছাড়াও এই অঞ্চলের অনেক দেশই বঙ্গববন্ধু স্যাটেলাইটের কাভারেজের আওতায় থাকবে। এতে আছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার।তথ্য ও ছবি রিসিভ করে পাঠানো, ইন্টারনেট সরবরাহসহ সহ নানা কাজে ২০টি ট্রান্সপন্ডার ব্যাবহার করবে বাংলাদেশ। বাকি ২০টি অন্য দেশের কাছে ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন সম্ভব হবে।
পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে নিজ কক্ষপথে পৌছাতে আট থেকে দশ দিন সময় নেবে বিএস । আর কাজের জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগবে তিন মাস। ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট কেনা হয়েছে; ৩.৭ টন ওজনের বিএস-ওয়ানের স্থায়িত্ব হতে পারে কমবেশি দেড় যুগ। প্রথম তিন বছর ফ্রান্সের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে। তারপর নিয়ন্ত্রণ আসবে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের হাতে। এজন্য গাজীপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি আর্থ স্টেশন নির্মাণ করেছে সরকার।