সিনিয়র শিক্ষক
১৬ অক্টোবর, ২০২৩ ০৫:১৩ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
১০ বছর ধরে শিক্ষক ছাড়াই চলছে পাঠদান, নেই অবকাঠামোও
সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তরে ৯ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৭ জন। যেখানে প্রাথমিক স্তরের পাঠদানে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট, সেই বিদ্যালয়েই ২০১৩ সালে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম পর্যন্ত অতিরিক্ত তিনটি শ্রেণির পাঠদান চালু করা হয়। এতে পাঠদানে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী ৫৮০ জন। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি। এই প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭৮৫ জন শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে মূলত পাঠদানের জন্য কোনো শিক্ষক নেই। তা ছাড়া শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র ও পাঠদানের জন্য শিক্ষা উপকরণ ও কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। সংকট নিরসেনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষাবান্ধব এই উদ্যোগটিকে সফল করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো সংকট দূর করতে হবে। বিদ্যালয়টির অধিকাংশ ক্লাস চলে পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাস চলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি একটি চালাঘরে। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটে অধিকাংশ শ্রেণিতে শাখা করা যাচ্ছে না। পঞ্চম শ্রেণিতে ৭১ জন, সপ্তমে ৬৫ জন এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৫২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও প্রত্যেক শ্রেণির পাঠদানের জন্য একটি করে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর একটি শ্রেণিতে পাঠদান করা শিক্ষকের জন্য কষ্টকর। তা ছাড়া পাঠদানও ফলপ্রসূ হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার লিটন জানান, বিদ্যালয়ের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো নিম্ন বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। এলাকার ১৫টি গ্রামের অধিকাংশ নারী-পুরুষ বালু-পাথর শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। নিকটবর্তী উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় অধিকাংশ ছেলেমেয়ে পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর ঝরে পড়ত। কিন্তু ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠদান চালু হওয়ায় ওই ১৫ গ্রামের মেয়েদের ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ের হার কমেছে। কিন্তু শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটের কারণে সঠিকভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাবিজ উদ্দিন জানান, আমাদের স্কুলের শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাই এখানে এসে কেউ থাকতে চায় না। তা ছাড়া ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য কোনো শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ বা আনুষঙ্গিক এক টাকাও দেওয়া হয় না। বাড়তি চাপের মধ্যে থেকে শিক্ষকরা কাজ করলেও তাদের কোনো বাড়তি সুবিধা নেই। ১০ বছর হয় অষ্টম শ্রেণি চালু করা হয়েছে, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ নেওয়া হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বললেন, আমি সুনামগঞ্জে নতুন যোগদান করেছি। তাহিরপুরের সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসআর