Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০১ অক্টোবর, ২০২৩ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

চায়ের দোকানদারের নামে রাস্তার নাম, ভাবা যায়!
চায়ের দোকানদারের নামে রাস্তার নাম, ভাবা যায়!
জীবিত অবস্থায় নিজের নামে রাস্তার মোড়ের নামকরণ! পথচলতি মানুষ দেখে যান লোকটিকে। তাঁর ছোট্ট একটা চায়ের দোকান। সেখানে বসে চা খান অনেকেই। তাঁদের কাছে নামকরণের গল্প বলেন। অনেকে অবাক হন। গর্বে বুক ভরে যায় তাঁর। তিনি ভন্দু ওরফে দুর্গাদাস কর। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর-বাঁকুড়া রাজ্য সড়কের উপর ভন্দুর মোড় রীতিমতো জনপ্রিয়। মোড়টির নাম দুর্গাদাসের ডাক নামে।
রাস্তার পাশে টিনের ছাউনির ছোট্ট দোকান দুর্গাদাসের। বাড়ি স্থানীয় তাঁতিপাড়ায়। ডাক নাম ভন্দু নামেই বেশি পরিচিত তিনি। শনিবার দোকানে চা বানাচ্ছিলেন বৃদ্ধ। বয়স চার কুড়ি ছুঁই ছুঁই। চা বানাতে বানাতে বলছিলেন মোড়ের ইতিহাস। কেন হল ভন্দুর মোড়। শুধু লোক মুখে প্রচলিতই নয়। সরকারি খাতায় কলমেও স্বীকৃতি মিলেছে। ফলে ভন্দু এখন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সেলিব্রিটি। তাঁর কাছে এ এক বড় পাওনা।
দুর্গাদাস বিশিষ্ট কোনও ব্যক্তি নন। সাধারণ-ছাপোষা মানুষ। অথচ, জীবিত অবস্থায় তাঁর নামে রাস্তার মোড়! কিন্তু কেন? এরজন্য অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হয়েছে তাঁকে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা দুর্গাদার। সংসারে দারিদ্রের ছোঁয়া সর্বত্র। হাল ধরতে বাবার সঙ্গে চা ও তেলেভাজার দোকান দেন দুর্গাদাস। খড়ের চালার দোকান। সামান্য মিষ্টিও পাওয়া যেত। সালটা ছিল ১৯৬০। তখন এলাকার দোকান বলতে একটাই। চারিদিকে জঙ্গল। এলাকায় একটি চালকল ছিল। ওই চালকলের শ্রমিকরা আসতেন দোকানে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খোলা থাকত দোকান। এখনও সেই নিয়মেই চলে। দুপুরেই বন্ধ থাকে দোকান। এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যা নামার আগেই হ্যারিকেন নিয়ে বাড়ি চলে যেতেন বাপ-বেটা। কিছুদিন পরই তাঁদের দোকানের চপের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারিদেকে। সকলেই বলতেন ভন্দুর চপ। সেই থেকেই এলাকার নাম হয় ভন্দুর মোড়। ধীরে ধীরে সেই নামেই সরকারি সিলমোহর পড়েছে। রাস্তার পাশে বসেছে নেম প্লেট। জ্বলজ্বল করছে ভন্দুর নাম। দেখেই গর্বে বুক চওড়া হয় দুর্গাদাসের।
চা-চপের দোকানি বলে আজও আক্ষেপ করেন না ৭৯ বছরের দুর্গাদাস বাবু। তিনি বলেন, চা তেলে ভাজার দোকান বলে দুঃখ নেই। আমার নামে মোড়ের নামকরণ হয়েছে এটাই বড়। ক’জনের জীবনে এটা হয়। চায়ের দোকান করেই পাঁচ ছেলে মেয়েকে মানুষ করেছেন তিনি। এখন বয়স হয়েছে। অশক্ত শরীর। কোনও মতে দোকান চালান। দোকানে আসেন বহু লোক। এলাকার লোকজন তাঁকে একবার সংবর্ধনা দিয়েছিলেন। বেশ আনন্দ পেয়েছিলেন দুর্গাদাস। মরণের আগে পর্যন্ত সেই আনন্দ নিয়েই বাঁচতে চান তিনি। শেষদিনে হয়তো বলতে চান, ‘আমার নাম খ্যাত হোক এই বলে, আমি তোমাদেরই লোক।’ বাসের কন্ডাক্টর হাঁক পাড়েন-ভন্দুর মোড়...ভন্দুর মোড়।
স্থানঃ- রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া।
✍কুন্তল পাল, পুরুলিয়া।
মন্তব্য করুন