Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৩:৩৩ অপরাহ্ণ

গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন : যেতে হবে বহুদূর। উপজেলা প্রশাসন ভেদরগঞ্জ শরীয়তপুর

পৃথিবীব্যপী আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পিরামিডের ভিত্তিভূমিতে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে শিক্ষাকে একটা নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করার কথা নির্ধারিত হয়েছিল (অনুচ্ছেদ-১৭) । আইনত দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্যে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন বাধ্যতামূলক; সরকার বিনামূল্যে এ শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে (বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন ১৯৯০)। বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ সর্বজনীন ও সবার জন্য একই মানেরপ্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীকে জীবনযাপনের জন্য আবশ্যকীয় জ্ঞান, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, জীবন-দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা অর্জন এবং পরবর্তী স্তরের শিক্ষা লাভের উপযোগী করে গড়ে তোলাকে প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে স্থির করা। উপরন্তু বাংলাদেশ বর্তমান জাতিসংঘ SDG (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) অর্জনে কাজ করছে যার ৪ নম্বর অভীষ্টে রয়েছে গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি, যে কোনো পরিবেশ খাপ খাওয়ানো কৌশল আয়ত্ত করা। একই অভীষ্টে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ এর কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকার ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে যুগান্তকারী পদক্ষেপ রাখেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেন। এছাড়া দেশের বিদ্যালয়বিহীন এলাকার ১ হাজার ৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব্যবস্থা যেখানে ১৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থী ও প্রায় ৪ লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন। এ সকল সরকারি উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পরেছে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে।

আর এই প্রথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজ ছয়গাঁও কেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লাকার্তা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করি। পরিদর্শনে ছাত্র ছাত্রীদের শিখন দক্ষতা যাচাই কালে দেখা যায় পঞ্চম শ্রেণীর অধিকাংশই ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে না, গণিতে দূর্বল। শিক্ষকগণ পাঠদান কার্যক্রম সরলীকরণ ও সহজীকরণ করেন না। দূর্বল ছাত্র ছাত্রীদের বাছাই করে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না, দুর্বলদের কিভাবে আত্মবিশ্বাস ও শিখন দক্ষতা বাড়ানো যায় সেটা নিয়ে কাজ করেন না। নিয়মিত এসেম্বলি, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া, স্কুল ড্রেস বাধ্যতামূলক করা, হাতের লেখা জমা দেওয়া এগুলো প্রতিপালনে জোর দিতে বলা হয়েছে।

 

এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ভেদরগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে শুদ্ধাচার চর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন স্যার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভেদরগঞ্জ। উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুস সোবহান মুন্সী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ভেদরগঞ্জ।

উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর জীবনে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও জ্ঞানার্জনের মূলভিত্তি তৈরি করে। সে কারণে, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুসংগঠিত করে প্রগতিশীল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট সমাজ বিনির্মাণে সব শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর।


মন্তব্য করুন