সহকারী প্রধান শিক্ষক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনদর্শনে শিক্ষার গুরুত্ব যেমন সর্বাধিক, পাশাপাশি কারিগরি জ্ঞানকেও সমান মর্যাদা দেয়া হয়েছে। একটি উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত বিদ্যা কতখানি অপরিহার্য তার মর্ম সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশের স্থপতি অত্যন্ত জোরালোভাবে অনুধাবন করেছিলেন। দেশ আর আধুনিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে একটি মানসম্মত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগের ব্যাপারটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি আগ্রহান্বিত করে তোলে। শিক্ষা জাতির মেরুদ-ই শুধু নয়, দেশকে এগিয়ে নিতে নিয়ামক শক্তিও বটে। শিক্ষা মানুষকে সমস্ত জড়তা, কূপম-ূকতা, রক্ষণশীল মনোভাব এবং অপসংস্কৃতি থেকেও মুক্ত করে। প্রাইমারি শিক্ষা থেকে আরম্ভ করে উচ্চ শিক্ষার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়াই শুধু নয়, অর্জিত জ্ঞানকে দেশের ভাগ্যোন্নয়নে কাজে লাগানোকেও উৎসাহিত করতেন তিনি। তাঁর স্বল্প সময়ের শাসনকালে শিক্ষা কার্যক্রমের যে নতুন পথরেখা এবং নির্দেশনা তাও সময়ের যৌক্তিক আবেদনে পূর্ণ ছিল। বঙ্গবন্ধু সম্ভাবনা দেখতেন একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষার অবারিত ক্ষেত্র কতখানি প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্ববহ। সেখানে প্রযুক্তিবিদ্যাকে সম্ভাবনার নিয়ামক সূচক হিসেবে ভাবতে দ্বিধা করতেন না। কারণ নিত্য-নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে প্রযুক্তির যে নবযাত্রা তাতে সমৃদ্ধ দেশ তৈরির সব ধরনের সম্ভাবনা বিরাজ করে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে শেখ হাসিনার সরকারও কারিগরি শিক্ষার ওপর যথেষ্ট জোর দিয়ে যাচ্ছে। প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মসূচীতে কারিগরি জ্ঞান সংযুক্তিকরণ তারই একটি সফল অগ্রযাত্রা। তাছাড়া উচ্চ শিক্ষায় যারা শিক্ষিত হয়ে কর্মযোগে আসতে চান সেখানে পেশার ক্ষেত্রসমূহের ঘাটতিও দৃশ্যমান হয়। ফলে উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বেকার হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। কিন্তু কারিগরি শিক্ষায় প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে পারলে দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা যেমন মিটবে, পাশাপাশি উন্নত বিশ্বেও এই মানব সম্পদ তার প্রত্যাশিত পেশাটি পেতে খুব বেগ পাবে না। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি দেশের বিভিন্ন কর্মপ্রকল্পে তাদের অংশীদারকে যথেষ্ট সম্ভাবনায় প্রয়োগ করতে পারবে। বাংলাদেশে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক মহাপ্রকল্পের কর্মযোগ প্রতিনিয়তই বাড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন কারিগরি দক্ষতায় সক্ষম জনগোষ্ঠী। সরকারও নিত্য-নতুন কর্মপ্রকল্পে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কাজের জায়গা তৈরি করে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্ব এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশকেও সময়োপযোগী কর্মযোগে দক্ষ হওয়া বাঞ্ছনীয়। তেমন লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার মান বাড়ানোসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন কর্মপরিধিকেও যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে। ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির ধারায় বাংলাদেশের নিরন্তর এগিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি বর্তমানে করোনা দুর্যোগে স্তিমিত হয়ে এলেও পুনরায় তা নতুন উদ্যমে চালিত হবে নিশ্চয়ই। তেমন সমৃদ্ধিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কারিগরি শিক্ষাকে তার প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সময়ের দাবি।