সিনিয়র শিক্ষক
২৬ আগস্ট, ২০২৩ ০৮:১৯ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। দেশের গবেষকেরা এর নাম দিয়েছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু। বছর শেষ না হওয়ার আগেই গেল এক দশকের তুলনায় রেকর্ডসংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো জানান দিচ্ছে চলতি বছরের ডেঙ্গু সংক্রণের ভয়াবহতা। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন মানুষের মধ্যে ভয় ও চিন্তার অন্যতম কারণ। ইতিমধ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সি যুবকেরা বেশি মারা গেছেন। তবে মুক্তি পাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধও।গেল বছর দেশে মোট ৬২,০৯৮ জন মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন, মারা গিয়েছিলেন ২৮১ জন। ডেঙ্গুর পিক সিজন সাধারণত ধরা হয় প্রতি বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকের মধ্যে এ বছরের জুলাই মাসে দেশে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছে।জানা যায়, বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৬৫ সালে। তবে ডেঙ্গুর বড় সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল ২০১৯ সালে। সে বছরের সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেকই ঢাকায়। আর ঢাকায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার ছিল সারা দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৭ শতাংশ। দেশে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের অনেকগুলো প্রধান কারণ থাকলেও গবেষকেরা মনে করছেন জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম কারণ। এক ঋতু অন্য আরেক ঋতুতে মিলিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, সেইসঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাংক এক গবেষণায় জানিয়েছে, বাংলাদেশের ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ হিসেবে দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের এক ঋতুর সঙ্গে আরেক ঋতুর যে সময়ের পার্থক্য তা মিলিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ডেকে আনছে নতুন সব বিপদ। মৌসুম বা মৌসুম ছাড়াও ডেঙ্গুর মতো বাহকনির্ভর প্রাণঘাতী রোগের সংক্রমণ বাড়ছে বিশেষ করে শহর এলাকায়।গবেষণাটি আরো জানাচ্ছে, স্বকীয়তা হারাচ্ছে দেশের ঋতুভেদে আবহাওয়ার বৈচিত্র্য। প্রতিবছর গ্রীষ্মের সময়টা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। অসময়ে বাড়ছে গরম। ক্যালেন্ডার অনুসারে যে সময়টায় শীতের সময় থাকার কথা শীত, তখনো তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকছে। জুন-আগস্ট মৌসুমে গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হতো, এর পরিবর্তে এখন সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে গড় বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ হচ্ছে বর্ষাকাল।
চলতি বছরে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর—ডরপ এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে ডেঙ্গু বিস্তারে অন্যতম সমস্যা হিসেবে কাজ করছে জলবায়ু পরিবর্তন। সেইসঙ্গে পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনাও বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। এছাড়াও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাত।
বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে আমাদের সচেতনতার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিবেশ সংস্থা এবং বৈশ্বিক নেতাদের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। তা না হলে শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধ নয়, সামনে আমাদের আরো বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।