গফরগাঁও সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক 'আব্দুল বাতেন মিঞার' সাথে সিপিজি'র কথোপকথন।
অধ্যপক আব্দুল বাতেন গফরগাঁও কলেজে যোগদান করার পর তিনি দেখলেন কলেজের চারপাশে রয়েছে ঝোপঝাড় টিন আর বাঁশ বেতের ঘর।
সন্ধ্যার পর নেমে আসে শিয়ালের ঝাঁক। হারিকেনের নিবু নিবু আলোতেই চলে রাতের পর দিনের অপেক্ষা। কোন ভাবে পড়ে থাকেন এই কলেজের ছোট্ট একটি ঘরে।
একবার ভেবে দেখুন ১৯৬৫ সাল।
আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগের কথা।
কলেজ বলতে এই টুকুই।তখনও তিনি বিয়ে করেন নি।তিনি জমিদার বংশে জন্ম নিলেও ধন দৌলতের লোভ বেঁধে রাখতে পারেনি আব্দুল বাতেন কে।
কষ্ট করেছেন এক আকাশ পরিমাণ। ছাত্র-ছাত্রীদের বিপদে আপদে ছুটে গেছেন বাড়ী পর্যন্ত।
ছাত্র-ছাত্রীরাও দারুণ ভাবে ভালোবাসতেন।অনেক শিক্ষক যে সমস্যা সমাধান না দিতে পেরেছেন তিনি খুব সহজে করেছেন ছাত্রদের উপর দারুণ বিশ্বাস নিয়ে।
১৯৭১ সাল।
মানুষের যতগুলো অনুভুতি আছে তার মাঝে সবচেয়ে সুন্দর অনুভুতি হচ্ছে ভালোবাসা। আর এই পৃথিবীতে যা কিছুকে ভালোবাসা সম্ভব তার মাঝে সবচেয়ে তীব্র ভালোবাসাটুকু হতে পারে শুধুমাত্র মাতৃভূমির জন্যে। যারা কখনো নিজের মাতৃভূমির জন্যে ভালোবাসাটুকু অনুভব করেনি তাদের মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই। অবিশ্বাস্য সাহস ও বীরত্বের ইতিহাস এবং বিশাল এক অর্জনের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণে অধ্যাপক আব্দুল বাতেন ছাত্রদের উৎসাহিত করেছেন এই গফরগাঁওয়ে।
যখন কেউ এই আত্মত্যাগ, বীরত্ব আর অর্জনের ইতিহাস জানবে, তখন সে যে শুধুমাত্র দেশের জন্যে একটি গভীর ভালোবাসা আর মমতা অনুভব করবে তা নয়, এই দেশ, এই মানুষের কথা ভেবে গর্বে তার বুক ফুলে উঠবে বলে অধ্যাপক আব্দুল বাতেন জানান ।
তিনি আজ ক্লান্ত। বয়সের কাছে নুইয়ে পড়েছেন এই মানুষটি।